২০২৪-এর আগাস্টের পর থেকে তদারকি সরকার চলছে বাংলাদেশে (Bangladesh)। সেই সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূস দায়িত্ব নিয়ে বলেছিলেন ৩ মাসের মধ্যে ভোট করাবেন। কিন্তু তার পরে পদ্মা দিয়ে অনেক জল বয়ে গিয়েছে। বছর ঘুরেছে। এখনও নির্বাচন হয়নি। এর মধ্যে শোনা যাচ্ছে ফেব্রুয়ারিতে সেখানে ভোট হবে। কিন্তু এর মধ্যে হাসিনার দল আওয়ামী লিগকে নিষিদ্ধ করেছে ইউনূস সরকার। এই পরিস্থিতিতে ভোট হলে তারা যোগদান করতে পারবে না। শুধু তাই নয়, কবে আবার তাদের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠবে, তার ঠিক নেই। এই পরিস্থিতিতে ভোট চাইছেন না আওয়ামী লিগের (Awami League) নেতা-নেত্রীরা। ভোট (Vote) কেন্দ্র পর্যন্ত গেলেও ভোটদান যাতে না হয়, এখন তার পন্থা ঠিক করছেন তাঁরা।

এখনও টালমাটাল পরিস্থিতি বাংলাদেশে। এর মধ্যে ভোটের হাওয়া। যদিও ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও, সেই বিষয়ে কোনও তৎপরতা নেই প্রশাসনিক স্তরে। এর মধ্যেই সে দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina) বার্তা দিয়েছেন, “নো বোট নো ভোট”। অর্থাৎ আওয়ামী লিগের প্রতীক না থাকলে ভোট নয়। এই স্লোগান দিয়েই দেশবাসীর কাছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বয়কটের ডাক দিয়েছেন বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী। এই পরিস্থিতিতে ভোট হলে, কী করবেন আওয়ামী লিগের সমর্থকরা? এই নিয়েই এখন রূপরেখা তৈরিতে ব্যস্ত আওয়ামী লিগের বর্তমান শীর্ষ নেতৃত্ব।

আওয়ামী লিগের (Awami League) নেতৃত্বের অনেকেই বাংলাদেশ ছেড়ে এখন বিদেশে। তাঁদের ক্ষেত্রে ভোট বয়টকে সমস্যা নেই। কিন্তু যাঁরা দেশে রয়েছেন, তাঁরা পড়েছেন সমস্যায়। কারণ, ভোট দিতে যাওয়ার জন্য লাগাতার তাঁদের কাছে হুমকি আসছে। সবচেয়ে চিন্তার বিষয়ে হল, অভিযোগ, বিএনপি-র নামে হুমকি দিচ্ছে জামাত। আর কেউ মার খেলে বা জেলে গেলে জামাত গিয়ে পাশে দাঁড়াচ্ছে, আর্থিক সাহায্য দিচ্ছে। ফলে বিএনপি-র দিক থেকে ফ্লোটিং ভোটারদের (Voter) সমর্থন জামাতে ইসলামির দিকে চলে যাওয়ার আশঙ্কা আওয়ামী লিগের। আর সেটা হলে, অদূর ভবিষ্য়তেও বাংলাদেশে রাজনৈতিক দল হিসেবে ফিরতে পারবে না হাসিনার দল।
আর একটি মাথাব্যথার কারণ হল গণভোট। কী এই গণভোট?
১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা। ওই দিন একই সঙ্গে হবে গণভোট। সংবিধান বদলে ইউনূসের জুলাই সনদকে মান্যতা দিতেই এই গণভোট। এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে জোর প্রচার শুরু করেছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। প্রধান উপদেষ্টার স্যোশাল মিডিয়ার পেজে গণভোটের ‘হ্যাঁ’- তে সিল দিন এ রকম একটি ফটোকার্ড শেয়ার করার পাশাপাশি ভিডিও চিত্রেও জনগণকে হ্যাঁ ভোট দিতে আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে কী পাওয়া যাবে আর ‘না’ ভোট দিলে কিছুই পাওয়া যাবে না সেটার প্রচারও করা হচ্ছে। ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচার চালাচ্ছে জামাতে ইসলামিও। তবে, বিএনপি জনগণের হাতেই সিদ্ধান্ত ছেড়ে দেওয়ার পক্ষে।

এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের ভোট চাইছে না আওয়ামী লিগ। শুধু তাই নয়, এই নিয়ে প্রচার শুধু করেছেন আওয়ামী লিগ নেতৃত্ব। বলা হচ্ছে, আবেদনপত্রে লেখা হয়েছে- “ফ্যাসিস্ট ইউনুস জঙ্গি পাহারায় ভোট করাতে চায়। সেই ভোট দিতে যাবেন না। যে ব্যালটে নৌকা প্রতীক থাকবে না, যে নির্বাচনে আওয়ামি লিগ অংশগ্রহণ করতে পারবে না, সেখানে আমাদের সমর্থক কোনও ভোটারেরা কেউ ভোটকেন্দ্রে যাবেন না।“ পদ্যের ভাষায় লেখা হয়েছে, “জেগে ওঠো বাংলাদেশ/ রুখে দাঁড়াও বীর বাঙালি/ হটাও ইউনুস বাঁচাও দেশ/ দেশরত্ন শেখ হাসিনার নির্দেশ/ প্রহসনের নির্বাচন বাংলাদেশের জনগণ মানবে না।“

কিন্তু যাঁদের উপর ভোট দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে-তারা কী করবেন? এই নিয়ে আলোচনা চলছে আওয়ামী লিগ নেতৃত্বের মধ্যে। সেক্ষেত্রে সাপও মরবে আবার লাঠিও ভাঙবে না- এই রকম কোনও পন্থা বাতলে দিতে চাইছে আওয়ামী লিগ। এখন ফেব্রুয়ারিতে আদৌ ভোট হবে কি না- সেটাই দেখার।

–

–

–

–


