কলকাতা মহানগরীতে জলপথ পরিবহণ এবং তার সঙ্গে যুক্ত পরিকাঠামো প্রকল্পগুলির পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব খতিয়ে দেখতে সমীক্ষা করানোর সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। পরিবহণ দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি বিশেষজ্ঞ পরামর্শদাতা সংস্থা নিয়োগ করে ‘কিউমুলেটিভ ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট’ বা সামগ্রিক প্রভাব মূল্যায়ন করা হবে।

মহানগর এলাকায় নদীকে কেন্দ্র করে একাধিক পরিকাঠামো ও লজিস্টিক প্রকল্প গড়ে ওঠায় তাদের সম্মিলিত প্রভাব বিচার করা জরুরি হয়ে উঠেছে। প্রশাসনের মতে, পৃথক পৃথক প্রকল্প নয়, সব ক’টির মিলিত অভিঘাত বুঝতে পারলেই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আরও সুসংহত করা সম্ভব হবে।

এই সমীক্ষায় নদীর জলের গুণমান, নদী ও তীরবর্তী এলাকার বাস্তুতন্ত্র, মৎস্যজীবী ও উপকূলবর্তী জনপদের জীবিকা, নদীভাঙন, দূষণ এবং দ্রুত নগরায়নের প্রভাব খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি বিচার করা হবে, একাধিক প্রকল্পের সম্মিলিত প্রভাব পরিবেশগত গ্রহণযোগ্য সীমা অতিক্রম করছে কি না।
সমীক্ষার রিপোর্টের ভিত্তিতে রাজ্য সরকার একটি পরিবেশ ও সামাজিক ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা তৈরি করবে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা, প্রকল্পের নকশায় পরিবর্তন কিংবা আঞ্চলিক স্তরে বিশেষ নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপের সুপারিশ করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন আধিকারিকরা। লক্ষ্য একটাই—নদীপথ পরিবহণকে বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা হিসেবে গড়ে তুলতে গিয়ে যেন পরিবেশগত ভারসাম্য ও স্থানীয় মানুষের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

উল্লেখ্য, কলকাতা মহানগরীতে যানজট কমানো এবং পণ্য পরিবহণের খরচ হ্রাসের উদ্দেশ্যে রাজ্য সরকার নদীপথ ব্যবহারের উপর বিশেষ জোর দিচ্ছে। তবে সেই উন্নয়নের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব আগে থেকেই মূল্যায়ন করে এগোনোর দিকেই এ বার প্রশাসনের নজর। সমীক্ষার ব্যয় কত হবে, তা এখনও জানানো হয়নি। পরামর্শদাতা সংস্থা নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই এ বিষয়ে বিস্তারিত ঘোষণা করা হবে বলে পরিবহণ দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন – ম্যাঙ্গো ইকনমিতে মালদহের যুবকদের কাজ! মোদির কাছে পরিযায়ী খুনের উত্তর দাবি তৃণমূলের

_

_

_

_
_


