৩২ মাসে একবারও তাঁর খোঁজ নেননি দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। নামকে-ওয়াস্তে একবার অশান্তি মনিপুরে একবার পা রেখেছেন। কিন্তু শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকার। সেই অশান্তির মধ্যে নতুন করে দুঃসংবাদ মনিপুরের (Manipur) কুকি সম্প্রদায়ের (Kuki community) কাছে। মৃত্যু হল ২০২৩ সালে গণধর্ষিতা (gang rape) তরুণীর। দীর্ঘ প্রায় ৩২ মাস ধরে শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করার পর চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি নির্যাতিতার মৃত্যু (rape victim death) হয়। পরিবার জানিয়েছে, সেই ভয়াবহ ঘটনার শারীরিক ও মানসিক আঘাত থেকে আর কখনও সেরে উঠতে পারেননি ২০ বছরের তরুণী।

২০২৩ সালের মনিপুরের কুকি অধ্যুষিত এলাকায় দুই কুকি সম্প্রদায়ের মা ও মেয়েকে নগ্ন করে হাঁটানো ও গণধর্ষণের ভিডিও একসময়ে গোটা বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। অথচ ব্যর্থ নরেন্দ্র মোদি সরকার সেই জঘন্য ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার তো দূরের কথা, এলাকায় প্রায় এক বছর প্রবেশ পর্যন্ত করতে পারেনি। কুকি ও মেইতি সম্প্রদায়ের লড়াই যেন হাসির খোরাক করে তুলেছে নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) সরকারকে। ঘটনায় মাত্র ৬ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে চার্জ গঠন করে সিবিআই (CBI)। সেটাও হয়েছে অতি সম্প্রতি, ৮ জানুয়ারি। এখনও যাঁদের নামে অভিযোগ দায়ের হয়েছিল, তাঁদের মধ্যে তিন জন ফেরার।

পরিবারের দাবি, সেই ভয়াবহ রাতের পর মেয়েটি আর কখনও আগের মতো হাসেনি। শরীরের চোট হয়তো ধরা পড়ছিল, কিন্তু তাঁর আত্মা বয়ে বেড়াচ্ছিল এক বিশাল পাথরের মতো নীরবতা -যেখানে একদিকে ছিল ক্ষমতার দাপট আর অন্যদিকে সরকারের চরম উদাসীনতা। যার ফলে একাধিকবার মনিপুর থেকে গুয়াহাটি নিয়ে গিয়েও তাঁকে শেষ পর্যন্ত বাঁচানো সম্ভব হল না।
২০২৩ সালের ৪ মে ভয়ঙ্কর অত্যাচারের সাক্ষী ছিলেন মৃত তরুণী। তিনি ও তাঁর পরিবার ইম্ফলের নিউ চেকন কলোনির বাসিন্দা ছিলেন। সেখান মেইতি গোষ্ঠীর হামলার জেরে তাঁর পরিবারের এক সদস্যকে তাঁদের সামনে খুন করা হয়। এক পুরুষ সদস্য ও নির্যাতিতা ও তাঁর মাকে নগ্ন করে রাস্তায় ঘোরানো হয়। পরে দুজনকেই গণধর্ষণ করা হয়। এই ঘটনার পরেই মনিপুরের কুকি-মেইতি জাতি সংঘর্ষ নতুন আকার নেয়। সেই সংঘর্ষে এখনও পর্যন্ত কুকি, মেইতি-সহ অন্যান্য সম্প্রদায়ের ২৬০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।

কমিটি অন ট্রাইবাল ইউনিটি (কোটু) তরুণীর মৃত্যুতে (rape victim death) গভীর শোকপ্রকাশ করে জানিয়েছে, এটি শুধু একটি পরিবারের ক্ষতি নয়, বরং প্রশাসনিক ব্যবস্থার ব্যর্থতার ছবিও উঠে আসছে এই ঘটনায়। কোটুর মুখপাত্র এনজি লুন কিপগেন জানান, ঘটনার পর ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারারর আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছিল।

ঘটনায় নামমাত্র বিচার ও তদন্ত প্রক্রিয়া চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। ছয়জনকে দোষী সাব্যস্ত করে চার্জ গঠন করা হলেও সিবিআই-এর নাগালের বাইরেই যে বহু রয়ে গিয়েছে তেমনটাই দাবি কুকি সম্প্রদায়ের মানুষের। কুকি উইমেনস ইউনিয়ন, সদর হিলস-এর সভাপতি নেংবোই হামার দাবি করেন, এই ঘটনায় বিচার পেতে এত দেরি হওয়া মানে শুধু ন্যায়বিচার নয়, মানবিকতাকেও অস্বীকার করা।

আরও পড়ুন : মোদি-সফরের পাঁচদিনেই অশান্ত মনিপুর: সেনা কনভয়ে হামলায় নিহত ২ জওয়ান

তবে তরুণীর মৃত্যুতে নতুন করে অশান্তির আশঙ্কা মনিপুরে। তরুণীর স্মরণে মনিপুরে যতগুলি মোমবাতি মিছিল বেরিয়েছে তা শান্তিপূর্ণ থাকলেও তা থেকে অশান্তির আঁচও পাওয়া গিয়েছে। বিচারের দাবি জানিয়েছে কুকি সম্প্রদায়। সেই সঙ্গে তাঁরা দাবি করেছে, এই ঘটনার পর থেকে যেভাবে মনিপুরের মাটিতে কুকি সম্প্রদায়ের মানুষকে আলাদা করে রাখা হয়েছে, তাতে তাঁদের আলাদা রাজ্যের দাবি করা ছাড়া উপায় নেই। ফলে স্বাভাবিকভাবেই মনিপুরের ভাগের দাবিতে নতুন করে অশান্তি তৈরির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

–

–


