এসআইআর সংক্রান্ত মামলায় তৃণমূল কংগ্রেসের তোলা একাধিক দাবিতে মান্যতা দিল দেশের শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করতে হবে এবং শুনানির সময় বিএলএদের উপস্থিত থাকতে দিতে হবে। এই নির্দেশে নির্বাচন কমিশনকে অক্ষরে অক্ষরে আদালতের রায় পালন করতে হবে বলে জানিয়েছে বেঞ্চ।

এই রায়কে তৃণমূলের বড় জয় হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন দলের নেতারা। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য (Chandrima Bhattacharya) বলেন, বাংলার মানুষের স্বার্থে এতদিন তৃণমূল যা বলছিল, শীর্ষ আদালতের রায়ে তারই সঠিকতা প্রমাণিত হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে দলের অভিযোগগুলিকেই কার্যত মান্যতা দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। তিনি এই রায়ের জন্য সর্বোচ্চ আদালতকে ধন্যবাদ জানান।

সাংসদ পার্থ ভৌমিক (Partha Bhowmik) বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই (Mamata Banerjee) প্রথম নির্বাচন কমিশনের একতরফা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। পরে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতিনিধি দল নিয়ে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা তুলে ধরেন। একাধিকবার সিইও দফতরে গিয়ে দলের দাবি জানানো হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, কমিশন নিজের মতো করে শুনানি করতে পারবে না, প্রয়োজনে শুনানি নতুন করে শুরু করতে হবে।

মন্ত্রী ব্রাত্য বসু (Bratya Basu) বলেন, তৃণমূল যে সমস্ত দাবি তুলেছিল, তার প্রত্যেকটি মানার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। বারাসতে সভামঞ্চ থেকেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই রায়ের কথা জানিয়ে দেন। ব্রাত্য বসুর বক্তব্য, নির্বাচন কমিশন তৃণমূলের দাবি উপেক্ষা করেছিল, কিন্তু শীর্ষ আদালত পয়েন্ট ধরে ধরে সেই দাবিগুলিকে স্বীকৃতি দিয়েছে। তাঁর দাবি, এই রায় জাতীয় নির্বাচন কমিশন ও সিইও দফতরের সামনে টাঙিয়ে রাখা হোক।

তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) বলেন, সুপ্রিম কোর্টের রায়ে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে বাংলার মানুষের ভোটাধিকার রক্ষার স্বার্থে তৃণমূল কংগ্রেস ও দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে দাবিগুলি তুলেছিলেন, তার সবকটিই যুক্তিসংগত ছিল। তাঁর মতে, লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সির নামে নির্বিচারে আর কাউকে শুনানিতে ডাকা যাবে না। শুনানির সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করতে হবে এবং বিএলএদের উপস্থিতির অধিকার নিশ্চিত করতে হবে— এটাই এই রায়ের মূল কথা।

আরও পড়ুন – পকেটে ছ্যাঁকা সুরাপ্রেমীদের! রাজ্যে মদের বিক্রি কমল ২০ শতাংশ

_

_

_

_
_


