ক্রমশ আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ইউরোপ ও আমেরিকার সমীকরণ। একদিকে গ্রিনল্যান্ড দখল করতে মরিয়া ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। অন্যদিকে শুল্কের সবরকম হুমকি সত্ত্বেও মার্কিন আগ্রাসন ঠেকাতে মরিয়া ফ্রান্স-ইংল্যান্ড-সহ ন্যাটো-র (NATO) আট দেশ। এই পরিস্থিতির মধ্যে মজা দেখতে ব্যস্ত রাশিয়া। গ্রিনল্যান্ড (Greenland) নিয়ে আমেরিকাকে দুষে ন্যাটো ভেঙে যাওয়ার আনন্দে উৎসব পালনের প্রস্তুতি ক্রেমলিনের (Kremlin)। তবে এবার ট্রাম্পের গাজা শান্তি বৈঠকে (Gaza peace meeting) যোগ না দেওয়ার বার্তা ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি এমানুয়েল ম্যাঁক্রো-র (Emmanuel Macron), যা আমেরিকার সঙ্গে ইউরোপের সম্পর্কে নতুন মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।

গ্রিনল্যান্ড দখলে মরিয়া ট্রাম্প এবার একধাপ এগিয়ে মঙ্গলবার ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন, যেখানে ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে তাঁর একটি পুরোনো ছবি দেখা যাচ্ছে এবং সেখানে মার্কিনি পতাকায় কানাডা, গ্রিনল্যান্ড ও ভেনিজুয়েলাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে। পোস্টটিতে ট্রাম্পকে ওভাল অফিসের ভিতরে বসে থাকতে দেখা যাচ্ছে, যেখানে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, ইতালির জর্জিয়া মেলোনি, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টার্মার এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লিয়েন-সহ অন্যান্য ন্যাটো নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

আরেকটি পোস্টে দেখা যাচ্ছে, ট্রাম্প তাঁর ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে সঙ্গে নিয়ে গ্রিনল্যান্ডে একটি মার্কিনি পতাকা উত্তোলন করছেন, এবং সেখানে একটি মাইলফলকে লেখা আছে, “গ্রিনল্যান্ড মার্কিন ভূখণ্ড, প্রতিষ্ঠিত ২০২৬”।

তবে আরও মারাত্মকভাবে ট্রাম্প নিজের ট্রুথ হ্যান্ডেলে ফরাসি রাষ্ট্রপতি এমানুয়েল ম্যাঁক্রোর সঙ্গে একটি ব্যক্তিগত কথোপকথন ফাঁস করে দেন। যেখানে সিরিয়া, ইউক্রেন ও গাজার ক্ষেত্রে আমেরিকাকে ফ্রান্সের সরাসরি সহযোগিতার কথা ফাঁস করেছেন ম্যাঁক্রো। তবে গ্রিনল্যান্ড (Greenland) নিয়ে যে ট্রাম্পের সঙ্গে একমত নন ম্যাঁক্রো (Emmanuel Macron), তা এই কথোপকথনেই স্পষ্ট। সেই সঙ্গে তিনি গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আবারও ট্রাম্পকে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন।

এই কথোপকথন ফাঁস হয়ে যেতেই ট্রাম্পের গাজা শান্তি বৈঠক নিয়ে বেঁকে বসেছেন ম্যাঁক্রো। যে শান্তি বৈঠকে ভারত, এমনকি চিনকেও আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে ন্যাটো-কে সমর্থন করার করাণে তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতির যোগ না দেওয়া ট্রাম্পের জন্য সম্মানহানি। আর এই বার্তা শোনার পরই ক্ষুব্ধ ট্রাম্প। জানিয়ে দেন, ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি পদে ম্যাঁক্রো আর থাকবেন না। এবার আমেরিকা ফরাসি শ্যাম্পেন ও ওয়াইনের উপর ২০০ শতাংশ শুল্ক চাপাতে চলেছেন।

আরও পড়ুন : এবারই গ্রিনল্যান্ড দখল! শুল্কেও অনড় ইউরোপের ঐক্যকে ট্রাম্পের নতুন হুমকি

ট্রাম্পের এই হুমকির পরে ন্যাটো আবার এক ছাদের তলায় আসবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্নের মাঝেই উৎসবের মেজাজ রাশিয়ায় (Russia)। ইউক্রেন ইস্যুতে যেভাবে ন্যাটো একজোট হয়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে সেই জোটেই ফাটল ধরেছে। এর জন্য ক্রেমলিনের বিবৃতিতে উনিশো শতকের উল্লেখ করে আমেরিকাকেই দায়ী করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ইউরোপের দেশগুলিকে রাশিয়ার বার্তা – আমেরিকাকে মহান বানাতে গিয়ে ডেনমার্ককে ছোট করে দেওয়া ও ইউরোপকে দরিদ্র করে দেওয়াই আমেরিকার লক্ষ্য ছিল। তবে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে সেই লক্ষ্যে জল ঢেলে দিয়েছে আট দেশ।

–

–

–


