নাটকের মঞ্চ হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে মহাশ্মশানকে। নিস্তব্ধ অন্ধকার চিরে জ্বলছে মশাল আর বনফায়ারের আগুন। সেই প্রাকৃতিক আলো আর ছায়ার রোমাঞ্চকে সঙ্গী করেই এক নতুন ইতিহাসের সাক্ষী থাকল বাঁকুড়া। পলাশতলা মহাশ্মশানে জঙ্গল নাটক ‘যক্ষ নরের পালা’ মঞ্চস্থ করে সমাজ ও সংস্কৃতির চিরাচরিত ধারণা বদলে দিল শুশুনিয়া ঐকতান থিয়েটার।
দীর্ঘদিন ধরেই ‘একটি গাছ অফুরন্ত প্রাণ’ বা ‘আমাদের বর্ণপরিচয়’-এর মতো প্রযোজনার মাধ্যমে দর্শকের মন জয় করে আসছে এই নাট্যদল। তবে এবার তাদের ভাবনা ছিল আরও সাহসী। শ্মশানের গাম্ভীর্যের মধ্যেই কচিকাঁচাদের নিয়ে এই বিশেষ নাটকের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের সূচনা করেন বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব ও আকাশবাণীর ঘোষক রুদ্রপ্রসাদ চক্রবর্তী। উপস্থিত ছিলেন সুব্রত দরিপা, প্রণতি দেবীর মতো ব্যক্তিত্বরা।
নাটক শুরুর আগে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। আলোচনার বিষয় ছিল ‘বাঁকুড়া থিয়েটারে মহিলা শিল্পী’। সেখানে অরুণাভ বন্দ্যোপাধ্যায়, ইন্দু বিশ্বাস এবং শাশ্বতী দেবীরা জেলার নাট্যচর্চায় নারীদের ভূমিকা নিয়ে আলোকপাত করেন। এর পরেই শুরু হয় মূল নাটক। শ্মশানের পরিবেশে মশাল জ্বেলে কচিকাঁচাদের সাবলীল অভিনয় দর্শকদের এক অন্যরকম অনুভূতি উপহার দেয়। প্রথাগত মঞ্চের বাইরে খোলা আকাশের নিচে এই অভিনয় দেখে মুগ্ধ হয়েছেন উপস্থিত থিয়েটারপ্রেমীরা।
বাঁকুড়া থিয়েটার অ্যাকাডেমির সম্পাদক অরুণাভ বন্দ্যোপাধ্যায় এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, “শ্মশানের মধ্যে প্রাকৃতিক আলোয় যেভাবে নাটকটি পরিবেশিত হলো, তা সত্যিই প্রশংসার যোগ্য।” রুদ্রপ্রসাদ চক্রবর্তীও জানান, দুই দিন ধরে এই প্রস্তুতির পাশে থেকে তিনি শিশুদের অসাধারণ প্রতিভার পরিচয় পেয়েছেন। ঐকতানের কর্ণধার কৌশিক মণ্ডল জানান, নাটকটিকে গতানুগতিক ছকের বাইরে নিয়ে আসতেই তাঁরা পলাশতলা মহাশ্মশানকে বেছে নিয়েছিলেন। দর্শকদের ভালো লাগাই তাঁদের শ্রম সার্থক করেছে। আধুনিক সংস্কৃতির চাকচিক্যের ভিড়ে শ্মশানের নির্জনতায় এক চিলতে আলোর সন্ধান দিল এই নাটক।
আরও পড়ুন- শ্যুটিংয়ের মাঝেই হাসপাতালে ভর্তি রণিতা
_
_

_

_

_

_



