জানা গিয়েছে, প্রথম পর্যায়ে বেশ কিছু সন্ন্যাসীর নথিপত্র যাচাইয়ের কাজ বেলুড় মঠে গিয়েই সেরেছিলেন কমিশনের আধিকারিকরা। নিয়মমাফিক দ্বিতীয় পর্যায়টিও মঠের অন্দরেই হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে হোয়াটসঅ্যাপ মারফত নতুন নির্দেশিকা পাঠিয়ে সন্ন্যাসীদের সরাসরি শুনানি কেন্দ্রে সশরীরে হাজিরা দেওয়ার কথা জানানো হয়। এমন আকস্মিক সিদ্ধান্তে রীতিমতো বিব্রত হয়ে পড়েন মঠের সন্ন্যাসীরা। প্রথম দিকে তাঁরা যাওয়ার ব্যাপারে কিছুটা অনীহা প্রকাশ করলেও, শেষ পর্যন্ত নিয়ম মেনে মঠের বাসে চেপেই শুনানি কেন্দ্রে পৌঁছান।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সুর চড়িয়েছে রাজ্যের শাসক দল ও ওয়াকিবহাল মহল। অভিযোগ উঠেছে, বিজেপি রাজনৈতিক স্বার্থে কাউকেই রেয়াত করছে না, এমনকি সন্ন্যাসীদেরও অসম্মান করতে কসুর করছে না। কমিশনের এই ঘনঘন মত বদল এবং নতুন নির্দেশিকা পাঠানোর প্রক্রিয়াকে ‘হয়রানি’ হিসেবেই দেখছেন অনেকে। প্রশ্ন উঠেছে, কেন একজন সন্ন্যাসীকে বেলুড় মঠের মতো পবিত্র স্থান ছেড়ে সাধারণ মানুষের মতো লাইনে দাঁড়িয়ে শুনানিতে অংশ নিতে হবে?
অভিযোগের তির সরাসরি বিজেপির দিকে ছুঁড়ে দিয়ে বলা হচ্ছে, যাদের মুখে সারাক্ষণ রামনাম এবং ধর্মের কথা শোনা যায়, তাদের আমলেই সন্ন্যাসীরা আজ অপমানের শিকার। রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে কমিশনকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও দাবি উঠেছে। শুনানি কেন্দ্রে নথিপত্র যাচাইয়ের কাজ চললেও, সন্ন্যাসীদের মনে যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে তা মঠের অন্দরে তাঁদের অনীহা প্রকাশের মাধ্যমেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। প্রশাসনের এক শ্রেণির আধিকারিকদের মতে, নিয়ম সবার জন্য সমান হলেও বিশেষ ক্ষেত্রে জায়গার বিবেচনা করার প্রয়োজন ছিল। সন্ন্যাসীদের মঠ ছেড়ে বাইরে ডেকে পাঠিয়ে বিজেপি আসলে তাঁদের দীর্ঘদিনের পরম্পরা ও মর্যাদাকেই আঘাত করল বলে মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন- রিলের নেশায় তুচ্ছ জীবন! বরফে পাতলা শিফন পরে নাচতে গিয়ে বিপত্তি তরুণীর
_
_
_
_
_
_
















