আর মাত্র দুদিন পরে যার উৎসবের আবহে বাড়ি ফেরার কথা ছিল, সেই ছেলের কফিন বন্দি দেহের অপেক্ষায় এখন ঝাড়গ্রামের কুচলাদাঁড়ি গ্রাম। ছুটি নিয়ে বাড়ি ফিরে নিজের ঘরের চাল ঢালাই দেওয়ার কথা ছিল। তার আগেই জম্মু-কাশ্মীরের ডোডা (Doda) জেলায় সেনাবাহিনীর গাড়ি (Indian Army truck) দুর্ঘটনায় শহিদ হলেন ঝাড়গ্রাম (Jhargram) জেলার সাঁকরাইল ব্লকের রগড়া অঞ্চলের কুচলাদাঁড়ি গ্রামের বাসিন্দা, ২৮ বছরের সেনা জওয়ান সমীরণ সিং। তাঁর অকালপ্রয়াণে শোকস্তব্ধ পরিবার, গ্রাম এবং গোটা ঝাড়গ্রাম জেলা।

সমীরণ সিং ভারতীয় সেনাবাহিনীর ব্রেভো কোম্পানির ১৬৯ নম্বর ব্যাটালিয়নের জওয়ান ছিলেন। বৃহস্পতিবার কাশ্মীরের ডোডা জেলার খনি ভগরবাত এলাকায় সেনাবাহিনীর একটি গাড়ি ক্যাম্পে ফেরার সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। উল্টোদিক থেকে আসা একটি গাড়িকে পাশ কাটাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেনাবাহিনীর গাড়িটি প্রায় ২০০ ফুট গভীর খাদে পড়ে যায়।

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ১০ জন জওয়ানের মৃত্যু হয় এবং গুরুতর আহত হন আরও ৬ জন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন ঝাড়গ্রামের সমীরণ সিং। দুর্ঘটনার খবর গ্রামে পৌঁছাতেই কুচলাদাঁড়িতে এলাকায় নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সমীরণ সিং ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। বাবা-মাকে সুখে রাখাই ছিল তাঁর জীবনের প্রধান লক্ষ্য। সেই স্বপ্ন পূরণে তিনি বাবা-মার জন্য নতুন বাড়ি তৈরি করে দিয়েছিলেন। নিজের থাকার জন্য বাড়ির দোতলা নির্মাণের কাজ চলছিল। পরিবারকে তিনি জানিয়েছিলেন, ২৪ তারিখ ছুটি নিয়ে বাড়ি ফিরে নিজের ঘরে ঢালাই দেবেন। সেই মতো সমস্ত প্রস্তুতিও আগেভাগেই ছোট ভাইকে দিয়ে সেরে রেখেছিলেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর বাস্তবায়িত হল না। পরিবার সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, শুক্রবারই সমীরণ সিংয়ের (Samiran Singh) মরদেহ বাড়িতে ফেরার কথা ছিল। তবে খারাপ আবহাওয়ার কারণে এখনও দেহ পাঠানো সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুন : ডোডায় গাড়ি দুর্ঘটনায় সেনাদের প্রাণহানিতে শোকপ্রকাশ অভিষেকের

নিহত জওয়ানের বাবা বীরেন্দ্র সিং এবং ছোট ভাই দিব্যেন্দু সিং বলেন, ছোটবেলা থেকেই সে বলত দেশের জন্য কিছু করবে। সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে চেয়েছিল। সেই লক্ষ্যেই নিজেকে তৈরি করেছিল। ২৪ তারিখ বাড়ি ফেরার কথা ছিল। কিন্তু সব শেষ হয়ে গেল।

–

–

–

–

–


