“আপনাকে যদি কোনও দায়িত্ব দেওয়া হয় আর আপনি ভাবেন কাজ না করলেও চলবে, সে আপনি বিধায়ক হন বা সাংসদ, তাহলে ভুল করছেন। নিজের দায়িত্ব পালন না করলে দল আপনার পাশে দাঁড়াবে না।” শনিবার মেগা ভার্চুয়াল বৈঠকে (Mega Virtual Meeting) কড়া বার্তা দিলেন তৃণমূলের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। বৈঠকে উষ্মা প্রকাশ করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বলেন, দলের ওয়ার রুম একাধিক জায়গায় ঠিকমতো কাজ করছে না। অভিষেক সাফ জানান, ”আত্মতুষ্টি বা অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের কোনও জায়গা নেই।”

এদিন, মেগা ভার্চুয়াল বৈঠক (Mega Virtual Meeting) থেকে মানুষের আরও কাছাকাছি পৌঁছনোর পাশাপাশি কোন কোন জিনিসে ফোকাস করতে হবে তার নির্দেশ দেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। SIR প্রক্রিয়াকে সামনে রেখে ঝাঁপিয়ে পড়ার পরামর্শ দেন তিনি। বলেন, “নভেম্বরে আপনাদের বলেছিলাম, এই লড়াই ৬ মাসের। তিন মাস কেটে গিয়েছে। সামনে এখনও তিন মাস, হাতে আছে প্রায় ১০০ দিন।”

এসআইআর সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় হাতে রয়েছে মাত্র ২২ দিনের মতো। এই সময়ের মধ্যেই সংগঠনের সর্ব শক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে বলে নির্দেশ দেন অভিষেক (Abhishek Banerjee)। জানান, ভোটার তালিকা প্রকাশের পর সর্বোচ্চ ১০ দিনের মধ্যেই শুনানি প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। তালিকা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই সমস্ত বিএলএ–২ এবং বুথ সভাপতিদের নিয়ে বুথভিত্তিক ‘ভোট রক্ষা কমিটি’ গঠনের নির্দেশ দেন তৃণমূলের সেনাপতি। বলেন, ”সংগঠনের একজন করে থাকুন। যাঁদের নাম বেরবে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির তালিকায়। তাঁদের কাছে যান। একটা কেস যেন মিস না যায়। এই এক কোটি ৩৬ লক্ষ লোকের কাছে ও আনম্যাপ ৩২ লক্ষ লোকের কাছে সবাইকে পৌঁছতে হবে। তাদের বাড়ি বাড়ি যান।”

সাংসদদের উদ্দেশে তৃণমূলের লোকসভার নেতা বলেন, সংসদের অধিবেশনে এক-দুদিন থেকে বাকি সময় নিজেদের এলাকায় সময় দিন। অভিষেক স্পষ্ট করে বলেন, আত্মতুষ্টি বা অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের কোনও জায়গা নেই। যাঁরা ‘ধীরে চলো’ নীতিতে বিশ্বাস করেন, তাঁদের বলছি, ঘুম থেকে উঠুন। দিল্লি আর হরিয়ানায় যা হয়েছে, বাংলাতেও সেটাই করার চেষ্টা হবে।

অভিষেকের অভিযোগ, “হরিয়ানা ও মহারাষ্ট্রে যেমন হয়েছিল, বাংলাতেও একই কৌশল নেওয়া হচ্ছে। তবে আমরা সতর্ক ছিলাম বলেই ধরতে পেরেছি।” একসঙ্গে ১০টির বেশি ফর্ম জমা দেওয়া আইনত অপরাধ। এর জন্য সাত বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে। কিন্তু বিজেপিকর্মীরা বস্তাভর্তি ফর্ম নিয়ে ঘুরছেন বলে অভিযোগ করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। অভিষেক স্পষ্ট করে দেন, দলের ওয়ার রুম সক্রিয় না থাকলে বিজেপি এই কাজ আরও জোরদার করবে।

সাংসদ-বিধায়কদের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দেন অভিষেক। বলেন, “দলের জন্যই আপনারা সাংসদ বা বিধায়ক হয়েছেন। মানুষের জন্য লড়াই করতে হলে প্রয়োজনে নিজের পকেট থেকেও খরচ করতে হবে।” অভিষেকের কথায়, তৃণমূল অন্য দলের মতো জনপ্রতিনিধিদের থেকে পার্টি ফান্ডে ৫০ শতাংশ দেওয়ার দাবি করে না। এক কোটি ৬৮ লক্ষ লোকের কাছে আমাদের পৌঁছতে হবেই। হিয়ারিং করিয়ে তাদের নাম যেন ফাইনাল ভোটার লিস্টে বেরোয় এটা নিশ্চিত করতেই হবে। ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়াকে সামনে রেখে দলীয় সংগঠনকে চূড়ান্ত লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত রাখতে কোনও ঢিলেমি বরদাস্ত নয়- মত তৃণমূলের সেনাপতির।

–

–

–

–


