প্রতি বছরের মতো এ বারও ২৬ জানুয়ারি সাধারণতন্ত্র দিবসকে কেন্দ্র করে রাজধানী দিল্লির নিরাপত্তা বলয় নিশ্ছিদ্র করতে কোমর বেঁধে নেমেছে প্রশাসন। তবে এ বারের কুচকাওয়াজে সবথেকে বড় চমক হতে চলেছে দিল্লি পুলিশের চোখে থাকা বিশেষ এক ধরনের ‘স্মার্ট গ্লাস’। ভিড়ের মধ্যে লুকিয়ে থাকা কোনো অপরাধী বা সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে নিমেষের মধ্যে চিহ্নিত করতে সক্ষম এই চশমা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এবং ফেসিয়াল রেকগনিশন প্রযুক্তিতে ঠাসা এই অত্যাধুনিক চশমা পরে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীরা এখন আক্ষরিক অর্থেই এক একটি ‘চলমান নজরদারি ইউনিট’।

দিল্লি পুলিশ সূত্রে খবর, এতদিন নজরদারির জন্য নির্দিষ্ট ভ্যান বা স্থির সিসিটিভি ক্যামেরার ওপর নির্ভর করতে হতো। কিন্তু ভারতীয় স্টার্টআপ সংস্থা ‘আজনালেন্স’-এর তৈরি এই স্মার্ট চশমা সেই সীমাবদ্ধতা দূর করে দিয়েছে। এই চশমা পরে পুলিশকর্মীরা যখন ভিড়ের মধ্যে দিয়ে হেঁটে যাবেন, তখন এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সামনে থাকা ব্যক্তিদের মুখ স্ক্যান করে পুলিশের কেন্দ্রীয় ডেটাবেসের সঙ্গে মিলিয়ে নেবে। কোনো স্থির ক্যামেরার বদলে পুলিশকর্মীরা নিজেরাই সচল অবস্থায় নজরদারি চালাতে পারবেন।

এই স্মার্ট চশমার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল এর ‘এজ প্রগ্রেশন’ ক্ষমতা। অর্থাৎ, কোনো অপরাধীর যদি ৩০ বা ৪০ বছর আগের ছবিও পুলিশের কাছে থাকে, তবে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে বর্তমান সময়ে তার সম্ভাব্য চেহারা কেমন হতে পারে, তার একটি খসড়া নিজে থেকেই তৈরি করে নেবে এই সিস্টেম। লেন্সের সামনে দিয়ে কেউ হেঁটে গেলে তাঁর সম্ভাব্য বয়স ও উচ্চতা তাৎক্ষণিকভাবে স্ক্রিনে ভেসে উঠবে। লাইভ ফুটেজের সঙ্গে পুরনো ছবির মিল যদি ৬০ শতাংশের বেশি হয়, তবে সংশ্লিষ্ট পুলিশকর্মীর স্মার্টফোনে সাথে সাথে সতর্কবার্তা বা অ্যালার্ট পৌঁছে যাবে।

এ বারের নিরাপত্তায় মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার সশস্ত্র জওয়ান। ড্রোনের মাধ্যমে আকাশপথে নজরদারির পাশাপাশি এই এআই চশমা এবং থার্মাল ইমেজিং প্রযুক্তিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কুয়াশা বা প্রতিকূল পরিবেশেও এই থার্মাল ইমেজিং প্রযুক্তি নির্ভুল তথ্য দিতে সক্ষম বলে জানিয়েছেন দিল্লির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার দেবেশ মাহলা।

ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা নিয়ে বিভিন্ন মহলে এই ফেসিয়াল রেকগনিশন প্রযুক্তি নিয়ে বিতর্ক থাকলেও, বড় জমায়েতে অপরাধ দমন এবং ভিড় সামলাতে এই স্মার্ট চশমা বিপ্লব ঘটাবে বলেই মনে করছেন শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকরা। জঙ্গি হামলা রুখতে এবং পুরনো দাগি অপরাধীদের পাকড়াও করতে এ বারের রাজপথে পুলিশের প্রধান হাতিয়ার হতে চলেছে এই চশমা।

আরও পড়ুন- এবার বিজেপির সঙ্গে মিলে মন্দির গড়বেন: সুপ্ত বাসনা জানালেন হুমায়ুন

_

_
_

_
_

_


