প্রত্যেক বছরের মত এবারেও সাধারণতন্ত্র দিবসের আগের দিন কেন্দ্রের পদ্ম পুরস্কারের তালিকা ঘোষিত হয়েছে। আর সেখানেই পদ্মশ্রী (Padmashree Award) প্রাপকদের মধ্যে জ্বলজ্বল করছে টলিউডের ‘ইন্ডাস্ট্রি ম্যান’ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের (Prosenjit Chatterjee) নাম। উচ্ছ্বসিত তাঁর সতীর্থ থেকে পরিবারের সদস্যরা। নস্টালজিক বড় পর্দার ‘কাকাবাবু’ মিস করছেন তাঁর মাকে। গর্বের এই দিনে স্মরণ করছেন বন্ধু ঋতুপর্ণ ঘোষকেও (Rituparno Ghosh)।


প্রায় চার দশকের বেশি সময় ধরে বাংলা সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিকে ধরে রেখেছেন প্রসেনজিৎ। শুধুমাত্র অভিনেতা হিসেবেই নয় সকলের প্রিয় ‘বুম্বাদা’ হিসেবে গোটা টলিউড পরিবারকে আগলে রেখেছেন তিনি। একের পর এক সুপারহিট ব্লকবাস্টার কমার্শিয়াল সিনেমার পাশাপাশি অন্য ধরনের ছবিতেও তাঁর অভিনয় দক্ষতার ছাপ ধরা পড়েছে বারবার। রবিবার সন্ধ্যায় কেন্দ্রের পদ্ম পুরস্কারের তাঁর নাম ঘোষণা হতেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেন প্রসেনজিৎ। তাঁর এই সম্মান প্রাপ্তিতে গর্বিত বাবা বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায় (Biswajit Chatterjee) থেকে পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়রা। অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত (Rituparna Sengupta) বলেন, “আমি দারুণ খুশি। এই পুরস্কার অনেক আগেই পাওয়া উচিত ছিল। প্রসেনজিৎ এই পুরস্কারের যোগ্য। এটা আমাদের গর্বের বিষয়।”


ছেলের সাফল্যে খুশি বর্ষীয়ান অভিনেতা বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, ‘এ আমার গর্ব। আমাদের পরিবারের মুখ উজ্জ্বল করেছে বুম্বা। আমি ওকে আমার আশীর্বাদ জানিয়েছি। কতটা ভালো লাগছে তা ব্যক্ত করতে পারব না।’


জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের (Kaushik Ganguly) সঙ্গে বেশ কয়েকটি সিনেমায় কাজ করেছেন প্রসেনজিৎ। ‘দৃষ্টিকোণ’ পরিচালকের মতে, আজকের যুগে যে বাকিদের মতো আত্মপ্রচারের পথে হাঁটেনি, সমানে কাজ করে গিয়েছে তাঁর এই সম্মান পাওয়া জরুরি ছিল।


শুক্রবার মুক্তি পেয়েছে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের নতুন ছবি ‘বিজয়নগরের হীরে’। কাকাবাবুর অভিনয়ে মুগ্ধ দর্শকরা। এদিন হল ভিজিটে গিয়ে দর্শকদের কাছ থেকেও শুভেচ্ছা-ভালবাসা পান প্রসেনজিৎ। টলিউডের প্রযোজক পরিচালক থেকে শুরু করে তাঁর সতীর্থরা এক বাক্যে বলছেন, অনেকদিন আগেই এ পুরস্কার পাওয়া উচিত ছিল বুম্বাদার। অবশেষে কেন্দ্রীয় সরকারের টনক নড়েছে। যেভাবে বাংলা বিনোদন জগতকে আগলে রেখেছেন প্রসেনজিৎ তাতে যথার্থ অর্থেই এ পুরস্কার তাঁর প্রাপ্য।

–

–

–

–

–
–
–
–


