অত্যাধুনিক সমরাস্ত্রের পাশাপাশি নিরন্তর প্রতিরক্ষার বার্তা দিয়ে শৌর্য প্রদর্শন রেড রোডে। ৭৭ তম প্রজাতন্ত্র দিবসে সেনাবাহিনীর একাধিক ইউনিট ও রাজ্য পুলিশের প্রশিক্ষিত বাহিনীর সমন্বয় কুচকাওয়াজে। তুলে ধরা হল রাজ্যের পাহাড় থেকে সাগর পর্যন্ত সংস্কৃতির সমন্বয়ের এক প্রদর্শনী। অভিবাদন গ্রহণ করলেন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস (C V Ananda Bose) ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।

রেড রোডের এবার কুচকাওয়াজের বিশেষ আকর্ষণ ছিল অসম রাইফেলসের রাইনো রেইডার্স (Rhino Raiders) বাহিনী। যাঁদের আরেক নাম ভৈরব বাহিনী। সিলং-এ অতিসম্প্রতি উত্তর-পূর্ব ভারতের আঞ্চলিক সন্ত্রাস দমন ও নিরাপত্তার স্বার্থে এই বাহিনী গঠিত হয়েছে ভূমিপুত্রদের নিয়ে। প্রজাতন্ত্র দিবসে সেই বাহিনীর প্রদর্শন হয় রেড রোডে।

পাশাপাশি ছিল ভারতীয় সেনার রোবোটিক মিউল (Robotic Mule)। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগে সেনাবাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে প্যারাডে অংশ নেয় এই রোবোট বাহিনীও। এর আগে দিল্লির রাজপথে এই বাহিনীর প্যারাড দেখা গিয়েছিল। তার পাশাপাশি প্রথমবার প্রদর্শিত হয় পঞ্চনাগ বাহিনী। যেখানে অত্যাধুনিক যানে একাধিক সমরাস্ত্র বহন সম্ভব। সেই সঙ্গে এখান থেকে ড্রোন চালনাও সম্ভব। প্রদর্শিত হয় ইন্দ্রজিৎ, রঞ্জিৎ, ঐরাবত যানের মতো প্রতিকূল পরিবেশে সচল ভারতীয় সেনাবাহনীর বাহন।

এবারের কুচকাওয়াজের আরও বিশেষ আকর্ষণ ছিল একাধিক স্কুলের প্যারাড। ছিল সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল, মিত্র ইনস্টিটিউশন, লোরেটো হাউস, উচ্চ বালিকা বিদ্যামন্দির বড়িশা, পুরুলিয়া সৈনিক স্কুলের পড়ুয়ারা ও তাঁদের মার্চপাস্ট, ব্যান্ড বাহিনী।

আরও পড়ুন : সংবিধান রক্ষার বার্তা: প্রজাতন্ত্র দিবসে শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রীর

রেড রোড ও সংলগ্ন এলাকা নিরাপত্তার স্বার্থে এদিন ১৭টি জোনে ভাগ করে ১২৫টি সেক্টরে শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে নিরাপত্তা বন্দোবস্ত করা হয়েছিল। প্রতিটি জোনের দায়িত্বে একজন উপ-নগরপাল আর সেক্টর পর্যায়ে সহকারী কমিশনার ও ইনস্পেক্টর পর্যায়ের অফিসাররা ছিলেন। গোটা শহরে প্রায় দু’হাজারেরও বেশি পুলিশ কর্মী মোতায়েন করা হয়। এদিকে নিরাপত্তার স্বার্থে যানচলাচলের নিয়ন্ত্রণও ব্যাপকভাবে করা হয়। রেড রোড, ধর্মতলা, ময়দানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সোমবার কুচকাওয়াজ চলাকালীন সময় বন্ধ রাখা হয়।

–

–

–

–


