মুসলিম তকমা দেওয়া, সংসদে দাঁড়িয়ে ভুল নাম উচ্চারণ, এবার মাতঙ্গিনী হাজরার (Matangini Hazra) নাম বিকৃতি! তাও আবার সাধারণতন্ত্র দিবসের (Republic Day) দিল্লির (Delhi) কর্তব্যপথের কুচকাওয়াজে। সোমবার অনুষ্ঠান চলাকালীন বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ট্যাবলোয় থাকা মাতঙ্গিনীর মূর্তির পরিচয় করাতে গিয়ে ‘মান্তাগিনি’ বলে সম্বোধন করেন সঞ্চালিকা। ভুল সংশোধনও করেননি তিনি। স্যোশাল মিডিয়ায় (Social Media) ভিডিও ভাইরাল হতেই সমালোচনার ঝড় ওঠে। (ভাইরাল ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি ‘বিশ্ব বাংলা সংবাদ’।) বারবার বাঙালি মনীষীদের এভাবে অপমানের তীব্র নিন্দা তৃণমূলের।

‘বন্দে মাতরম’ সৃষ্টির ১৫০ বছর উপলক্ষ্যে এবার সেই থিমে সেজেছিল ৭৭ তম সাধারণতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠান। বাংলার ট্যাবলোর (Tableau) একেবারে সামনে ছিল বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ম্যুরাল। ছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, স্বামী বিবেকানন্দ, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, বিনয়-বাদল-দীনেশ, মাতঙ্গিনী হাজরার (Matangini Hazra) মতো বিপ্লবীদের মূর্তি। সঙ্গে ছিল লাইভ অনুষ্ঠান। সেখানেই বাংলার মনীষীদের সঙ্গে পরিচয় করাতে গিয়ে মাতঙ্গিনী হাজরাকে ‘মান্তাগিনি’ বলেন ঘোষিকা। তার জন্য কোনওরকম দুঃখ প্রকাশ বা ভুল সংশোধনের রাস্তাতে হাঁটেননি তিনি। এই ঘটনায় তীব্র সমালোচনা ছড়িয়ে পড়েছে। বাঙালি মনীষীদের অপমান করার অভিযোগ বারবার উঠেছে গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে।

এই প্রথমবার নয়। এর আগে সংসদে দাঁড়িয়ে বাঙালি আবেগে ধাক্কা দিয়ে বিজেপি সাংসদ দীনেশ শর্মা মাতঙ্গিনী হাজরার নাম ভুল উচ্চারণ করে ‘মাতা গিনি হাজরা’ বলেন। তাঁকে মুসলিম তকমাও দিয়েছিলেন। এই নাম অপভ্রংশ নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। প্রতিবাদে সরব হয়ে তৃণমূল। তাদের মতে, বাঙালি মনীষীদের বিষয়ে কোনও সম্মান নেই দিল্লির মোদি সরকারের।

সংসদের (Parliament) শীতকালীন অধিবেশনে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়েকে ‘বঙ্কিমদা’ বলে বিস্তর সমালোচনার মুখে পড়েন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। বাংলার মনীষীকে অপমান করার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধেও। এবার কর্তব্য পথে বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামীর নাম বিভ্রাট নিয়ে তীব্র সমালোচনা ঝড় উঠেছে।

তৃণমূলের তরফে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করা হয়। দলের তরফে লেখা হয়,

“আজকের প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে, যখন শহিদ মাতঙ্গিনী হাজরা, যিনি হাতে তেরঙ্গা নিয়ে ব্রিটিশ বুলেটের মুখোমুখি হয়েছিলেন, তাঁকে ‘মান্তাগিনি হাজরা’ বলে অপমান করা হয়। এটি কোনও ভুল নয়। এটি একটি প্যাটার্ন। বাংলার মনীষীদের অবমাননা, আমাদের ইতিহাস বিকৃত করা এবং আমাদের শহিদদের অপমান করার উপর ভিত্তি করে তৈরি একটি রাজনৈতিক প্রকল্প।

এই বাঙালি-বিরোধীরা এই জাতির জন্য যাঁরা জীবন দিয়েছেন তাঁদের সম্পর্কে প্রাথমিক হোমওয়ার্ক করে না। আবার বলছি, এই অসম্মান আকস্মিক নয়। এটাই চলছে। তারা বাংলাকে উপহাস করে, এর ইতিহাস মুছে ফেলে এবং এর জনগণকে অবমাননা করে বিকৃত তৃপ্তি লাভ করে।”

–

–

–
–


