উত্তর ভারতে যেভাবে আনন্দের অনুষ্ঠান মানেই পাগড়ির প্রচলন, স্বাধীনতা দিবস থেকে প্রজাতন্ত্র দিবসে সেভাবেই পাগড়িকে নিজের ‘আইডেনটিটি’ করে নিয়েছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। ৭৭ তম প্রজাতন্ত্র দিবসে তাঁর মাথায় উঠল রঙবেরঙের কাপড়ের পাগড়ি (turban)। বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যের বার্তা তুলে ধরতে গিয়েও বেশিরভাগটাই পশ্চিমী ও উত্তর ভারতের সংস্কৃতিতে আটকে পড়লেন দেশের প্রধানমন্ত্রী (Prime Minister of India)।

এদিন প্রধানমন্ত্রীর পরনে ছিল গাঢ় নীল কুর্তা, সাদা চুড়িদার এবং তার উপরে হালকা আকাশি জ্যাকেট। কিন্তু এসবকে ছাপিয়ে যায় তাঁর পাগড়ি। রেশমের তৈরি ওই পাগড়িতে ছিল টাই অ্যান্ড ডাইয়ের কাজ। নানা উজ্জ্বল রঙের সোনালি জরিতে তৈরি নকশা পাগড়িটিকে করে তোলে আরও আকর্ষণীয়। মেরুন, বেগুনি, গোলাপি, সবুজ, হলুদ ও নীল রঙের উপর সোনালি রঙে আঁকা ময়ূরের পালকের মোটিফ (motif) নজর কাড়ে। এই ধরনের নকশা সাধারণত রাজস্থানের শিল্পকর্মেই বেশি দেখা যায়। পাগড়ি বাঁধার ভঙ্গিতেও ছিল রাজস্থানের যোধপুরের ছোঁয়া।

পাগড়ির শেষ অংশে ছিল সবুজ-মেরুণ কাপড়ে এমব্রয়ডারি কাজ। এই পুচ্ছ (tail) অংশটি লম্বা রেখে রাজপুতদের সংস্কৃতির বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেন মোদি (Narendra Modi)। মহারাষ্ট্র বা রাজস্থানে এই ধরনের লম্বা পুচ্ছযুক্ত পাগড়ি (turban) দিয়ে জাতিগত উঁচু নিচুকে বোঝানো হয়।

আরও পড়ুন : প্রজাতন্ত্র দিবসের অভিবাদন গ্রহণ রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীর: প্রধান অতিথি দুই ইউরোপীয় শীর্ষ নেতৃত্ব

গত কয়েক বছর ধরে সাধারণতন্ত্র দিবসে মোদির শিরোসজ্জায় বারবার উঠে এসেছে তাঁর নিজের রাজ্য গুজরাত কিংবা প্রতিবেশী রাজস্থানের প্রভাব। তবে ২০২২ সাল ব্যতিক্রমী ছিল, সেই বছর তিনি বেছে নিয়েছিলেন উত্তরাখণ্ডের ঐতিহ্যবাহী টুপি। এবছরও অবশ্য সেই পশ্চিমী সংস্কৃতির বার্তা পেশের ব্যতিক্রম হল না।

–

–

–

–

–


