বাবার নামের সমস্যার জন্য ছেলেদের এসআইআরে (SIR hearing notice) ডাক। অভিযোগ, সেই চিন্তায় আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে মৃত্যু হল বাবার। ঘটনাটি ঘটেছে মালদার মানিকচক ব্লকের নূরপুর নিচু তিওরপাড়া এলাকায়। মৃতের নাম শেখ সরিফুল(৬০)। তাঁর নামের আগের ‘শেখ’ আছে অথচ ছেলেদের নামের আগে শেখ নেই। পরিবারের তরফে দাবি করা হয়েছে, সরিফুলের ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম ছিল। কিন্তু লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির কারণে তাঁর দুই ছেলে এসআইআর-এর শুনানির নোটিস পেয়েছিলেন। এরপর থেকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন বৃদ্ধ। স্থানীয়দের তরফে দাবি করা হয়, বাড়িতে নোটিশ আসার পর থেকে খাওয়া-দাওয়াও ছেড়ে দিয়েছিলেন তিনি। মঙ্গলবার ভোররাতে আচমকাই মৃত্যু হয় সরিফুলের।

অন্যদিকে নদিয়ার তেহট্টে এসআইআর আতঙ্কে আরও একজনের মৃত্যুর অভিযোগ। মৃতের নাম আহিবা খাতুন (৩১)। পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, খসড়া তালিকায় আহিবার ভাই-বোনদের সংখ্যার গরমিল এসেছিল। তারপর থেকেই চিন্তায় ছিলেন তিনি। আতঙ্কে ছিলেন তাঁর তিনসন্তানকে ফেলে তাঁকে বাংলাদেশে না পাঠিয়ে দেওয়া হয়। হেয়ারিং-এর দিন সকালে আচমকাই হৃদরোগে তাঁর মৃত্যু হয়। পরিবারের তরফে অভিযোগ করা হয়েছে শুনানিতে ডাক আসার জেরেই মৃত্যু হয়েছে আহিবার। আরও পড়ুন: নিজের পছন্দে বিয়ে করলেই ‘একঘরে পরিবার’! ডবল ইঞ্জিন মধ্যপ্রদেশে নয়া ফতোয়া পঞ্চায়েতের

এসআইআর আতঙ্ক মৃত্যুর অভিযোগ এসেছে পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি থেকেও। মৃত বৃদ্ধার নাম সাহেলা বিবি। তাঁর বাড়ি দেশপ্রাণ ব্লকের সরদা গ্রাম পঞ্চায়েতের হিঞ্চি গ্রামে। পরিবার সূত্রে খবর, ২০০২সালের ভোটার তালিকাতেও মৃত ওই বৃদ্ধার নাম ছিল। এমনকি চলতি এসআইআর পর্বের খসড়া তালিকাতেও ওই বৃদ্ধার নাম ছিল। তবে এরপরেও শুনানির জন্য ওই বৃদ্ধাকে ডেকে পাঠানো হয়। এমনকি তাঁর ছেলে ও বৌমাকেও শুনানির জন্য ডেকে পাঠানো হয়। আর তাতেই দেশ ছাড়া হওয়ার আশঙ্কা করে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছিলেন ওই বৃদ্ধা। বুধবার তাঁর শুনানিতে যাওয়ার দিন ছিল। তার আগে সোমবার রাতে বাড়িতে ছেলে-বৌমা ও স্বামীর সঙ্গে এসআইআর নিয়ে কথাবার্তা বলছিলেন ওই বৃদ্ধা। এমন পরিস্থিতিতে তালিকা থেকে নিজের নাম বাদ যাওয়ার আশঙ্কা করে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তিনি। মুহূর্তের মধ্যে বুকে ব্যথা অনুভব করেন তিনি। ঘটনায় অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ওই বৃদ্ধা। চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার আগেই মৃত্যু হয় ওই বৃদ্ধার। এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ব্যাপক শোকের ছায়া নেমে আসে পরিবারে।

–

–

–

–

–

–

–

