Friday, April 3, 2026

SIR হয়রানিতে ডেকে আবার আসতে বাধা! পরিযায়ীদের সঙ্গে দ্বিচারিতার রাজনীতি

Date:

Share post:

নির্বাচন কমিশনের এসআইআর প্রক্রিয়া শুরুর সময় থেকে সব থেকে বড় বাধার সম্মুখিন হবে রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিকরা, এমনটা আন্দাজ করাই গিয়েছিল বিহারের এসআইআর (Bihar SIR) প্রক্রিয়ার পরে। তার জন্য প্রথম থেকেই লড়াই চালিয়ে এসেছে বাংলার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। এবার সেই পরিযায়ী শ্রমিকদের (migrant labour) ভোটার তালিকায় নাম তুলতে সর্বশেষ ষড়যন্ত্র বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে চালালো বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন।

বাড়িতে নোটিশ পাঠিয়ে ডাকা হয়েছে এসআইআর-শুনানিতে (SIR hearing)। অথচ বেঙ্গালুরু থেকে বাংলায় ফেরা নিয়েই চূড়ান্ত অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বাংলার কয়েক হাজার শ্রমিকের। তৃণমূল কংগ্রেস এই হয়রানির প্রতিবাদে কমিশন-বিজেপির যৌথ চক্রান্তের তীব্র নিন্দা করেছে। কমিশনের কাছে তৃণমূলের সাফ প্রশ্ন, বেঙ্গালুরু (Bengaluru) থেকে ফেরার ট্রেনের টিকিট নেই, বিমানের ভাড়া সামর্থ্যের বাইরে— গরিব মানুষগুলো ঘরে ফিরবে কীভাবে? এই মানুষগুলোর শুনানি কি ভার্চুয়াল মাধ্যমে করা যেত না?

বাংলার লক্ষাধিক দক্ষ শ্রমিককে কর্মসূত্রে থাকতে হয় দক্ষিণ ভারতে। একটা বড় অংশ কাজ করেন বেঙ্গালুরুতে। এসআইআরে দুর্বোধ্য ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’র নামে বাংলার ১.২০ কোটি ভোটারকে ডেকে পাঠানো হয়েছে শুনানিতে। তার মধ্যে রয়েছেন বেঙ্গালুরুতে কর্মরত বাঙালি শ্রমিকেরাও। কিন্তু এত কম সময়ের নোটিশে বাংলায় ফিরতেই নাজেহাল হতে হচ্ছে সেই শ্রমিকদের। কারণ, ট্রেনের টিকিট এত কম সময়ে পাওয়া সম্ভব নয়। মার্চ মাস পর্যন্ত সমস্ত দূরপাল্লার ট্রেনের টিকিট শেষ। আর বেঙ্গালুরু থেকে কলকাতা কিংবা বাগডোগরা পর্যন্ত বিমানের ভাড়া খেটে-খাওয়া দরিদ্র শ্রমিকদের ধরাছোঁয়ার বাইরে। ফলে শুনানিতে (SIR hearing) হাজিরার ডাক এলেও বাড়িতেই ফিরতে পারছেন না শ্রমিকদের (migrant labour) একটা বড় অংশ। যদিও এত বাধা সত্ত্বেও অমানবিক কমিশনের কাছে নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে ইতিমধ্যেই বহুকষ্টে বাংলার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন ৯,৪০০ জনেরও বেশি শ্রমিক।

আরও পড়ুন : সতর্ক ও সর্বাত্মক লড়াই: ভবানীপুরের বিএলএ-দের বৈঠকে ডেকে বার্তা তৃণমূল নেত্রীর

তৃণমূলের প্রথম থেকেই দাবি ছিল, পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য অনলাইন শুনানির ব্যবস্থা করা হোক। কাগজে কলমে সেই কাজ কমিশন করেছে। কিন্তু বাস্তব ছবিটা যা দেখা যাচ্ছে তা হল, এখনও পর্যন্ত কোনও পদক্ষেপ নেয়নি কমিশন। উল্টে একদিকে ডেকে পাঠিয়ে অন্যদিকে বাড়ি ফিরতে বাধা দিয়ে সাঁড়াশি চাপে হেনস্থা করছে দরিদ্র মানুষগুলোকে। নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে বিজেপির দালালি বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে বাংলার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস।

Related articles

মালদা-কাণ্ডে NIA তদন্তের নির্দেশ, সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণের পর চিঠি কমিশনের

মালদহের কালিয়াচকে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের ঘেরাওয়ের ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে জাতীয় তদন্ত...

পুরানো পদ্ধতিতে ফিরছে না উচ্চ মাধ্যমিক! সেমিস্টার নিয়ে বিভ্রান্তি কাটাল সংসদ

উচ্চ মাধ্যমিকে সেমিস্টার সিস্টেম বন্ধ হয়ে যাওয়া নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে তৈরি হওয়া যাবতীয় জল্পনা ও সংশয়...

IPL: হতশ্রী ব্যাটিং, ঘরের মাঠে সানরাইজার্সের বিরুদ্ধে হার নাইটদের

আইপিএলে ইডেনে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে হার কেকেআরের। ৬৫ রানে জিতল সানরাইজার্স। প্রথম ম্যাচে ডুবিয়েছিল বোলিং, এই ম্যাচে ব্যাটিং ব্যর্থতায়...

কমিশনের নির্দেশে রদবদল! সরলেন মালদহের কমিশনার, দায়িত্বে গুলাম আলি আনসারি

বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই রাজ্যে একাধিক প্রশাসনিক পদে রদবদল শুরু করেছিল নির্বাচন কমিশন। গত কয়েক সপ্তাহে শীর্ষ...