নির্বাচন কমিশনের চাপিয়ে দেওয়া এসআইআর প্রক্রিয়ায় চারিদিক থেকে জর্জরিত বাংলার মানুষ। মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১৫০ জনের। সোমবার যখন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশন দফতরে কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে কথা বলবেন, তখন বাংলার মৃতদের পরিবারের আত্মীয়রাও কথা বলতে চান নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে। কিন্তু তার আগেই বঙ্গভবনে (Banga Bhawan) অপেক্ষারত বাংলার মানুষদের ভয় দেখানোর নীতি নিল দিল্লি পুলিশ (Delhi Police)। মোতায়েন হল বিরাট পুলিশ বাহিনী। সোমবার সকালেই তার প্রতিবাদে সোচ্চার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বঙ্গ ভবনে সেই বাংলার মানুষদের সঙ্গে দেখা করে আশ্বস্ত করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)।

বাংলার মুখ্যমন্ত্রী দিল্লিতে পৌঁছাতেই উত্তাপ বাড়ল দিল্লির। বাংলার এসআইআর-এর (West Bengal SIR) নামে যে অত্যাচার মানুষের উপর চালাচ্ছে নির্বাচন কমিশন, তার প্রতিবাদ জানাতে বাংলা থেকে পরিবারগুলি দিল্লির বঙ্গভবনে পৌঁছেছে। মঙ্গলবার তাঁরা দেখা করবেন নির্বাচন কমিশনারের (CEC) সঙ্গে। তার জন্য চাওয়া হয়েছে অনুমতি। অথচ সোমবার সকাল থেকে সেই বঙ্গভবনের বাইরে বিরাট পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করে দিল্লি পুলিশ। সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে দেখা করতে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সকাল থেকে এই পরিস্থিতি হওয়াতে সকালেই ঘরের পোশাকে তৃণমূল সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে বাসভবনের বাইরে বেরিয়ে আসেন তিনি। অভিযোগ করেন, ঘরে ঘরে খুঁজে দেখছে কে কে এসেছে। এটা পুলিশ করতে পারে না। বাংলায় ১৫০ জন মারা গিয়েছে এসআইআরের জন্য। তাঁদের মধ্যে কিছু পরিবার তাঁদের আওয়াজ পৌঁছে দিতে দিল্লিতে এসেছেন। অনেকে আছেন, যাঁরা জীবিত অবস্থায় মৃত দেখিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তার প্রতিবাদ করতে তাঁরা এসেছেন। যদি তাঁদের অনুমতি দেওয়া হয় তাঁরা দেখা করবেন। কিন্তু কীভাবে তাঁরা তাঁদের আওয়াজ তুলে ধরবেন তা শেখাতে পারে না দিল্লি পুলিশ (Delhi Police)। যদি তারা চ্যালেঞ্জ করে তাহলে তাঁরা জানেন না বাংলার মানুষ কতদূর যেতে পারে।

সেখানেই তিনি স্পষ্ট করে দেন, দিল্লি পুলিশ নিজে থেকে এমনটা করছে না। তাঁদের সেরকম নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাই তাঁরা মোতায়েন হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ করব এরকম আচরণ করবেন না। যখন আপনি বাংলায় যান, তখন আপনাকে রেড কার্পেটে অভর্থনা জানানো হয়। কিন্তু আমরা দিল্লিতে এলে কেন কালো কার্পেট দেখানো হবে। নিজেকে সংযত করুন বাঙালিদের উপর অত্যাচারকরা থেকে। আমাদের পেশি শক্তি দেখাতে আসবেন না। যদি দেশের কেউ সরব না হয়, আমি হবো, আমার দল হবে।

এরপরই তিনি জানান, মঙ্গলবার দুপুর ৩টের সময়ে এই বাংলার মানুষের সঙ্গে দেখা করার জন্য সময় দিয়েছে দিল্লির নির্বাচন কমিশন। সেই সময়ই তাঁরা তুলে ধরবেন কীভাবে কমিশনের সিদ্ধান্তে অত্যাচারিত বাংলার মানুষ। তার আগে তাঁরা সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলবেন কি না, তা পুলিশ নিশ্চিত করে দিতে পারে না। বাংলার মানুষ কোনও বিক্ষোভ দেখাতে আসেনি। বিক্ষোভ দেখাতে এলে তার চেহারা অন্যরকম হত। কিন্তু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশে পুলিশ যেন এই অত্যাচার না করেন। বঙ্গ ভবনের বাইরে তিনি দিল্লি পুলিশের কর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। দোষ ঢাকতে দিল্লি পুলিশ দাবি করে, তাঁরা বাংলার মানুষকে নিরাপত্তা দিতে বাহিনী মোতায়েন করেছিল বঙ্গ ভবনের বাইরে।

বঙ্গ ভবনে ঢুকে বাংলা থেকে আসা এসআইআর-এ মৃতদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। তাঁদের আশ্বস্ত করেন, পুলিশের কারণে অত্যাচারিত হওয়ার আশঙ্কামুক্ত করেন। সেই সঙ্গে দাবি করেন, সরকারি অনুমতি রয়েছে তাঁর কাছে, ও এই বাংলার মানুষদের কাছে। তা সত্ত্বেও যেখানে যেখানে বাংলার সেই মানুষেরা রয়েছে, সেখানে সেখানে দিল্লি পুলিশ গিয়ে অত্যাচার করছে। সেই সঙ্গে অভিযোগ করেন, দিল্লিতে যখন বিস্ফোরণ হয় তখন তা আটকানোর ক্ষমতা থাকে না এই দিল্লি পুলিশের।

আরও পড়ুন : বিকালে কমিশনে মমতা-অভিষেক: ৬ চিঠির পরে জ্ঞানেশ-সাক্ষাৎ

বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট দাবি, বাংলায় মানুষের উপর যে অভূতপূর্ব অত্যাচার এসআইআর-এর নামে চলছে তা জানা দরকার দিল্লিরও। ১৫০ মৃতদের মধ্যে কয়েকটি মাত্র পরিবার দিল্লিতে এসেছে। ৫০টি পরিবার থেকে এসেছেন যাঁদের পরিবারের মানুষ মারা গিয়েছেন। ৫০ পরিবারের সদস্যরা আছেন, যাঁদের পরিবারে লোকেরা বেঁচে থাকা সত্ত্বেও মৃত দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে কিছু পরিবার নির্বাচন কমিশন দফতরে যাবেন। মঙ্গলবার তাঁরা কথা বলবেন সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গেও। চাইলে লক্ষ লক্ষ পরিবার নিয়ে আসতে পারতেন তিনি। কিন্তু এভাবে বেইজ্জতি করলে সেই পথেও যেতে পারেন বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
–
–
