বিশ্বখ্যাত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’(The Washington Post)-এ বড়সড় বদল। প্রযুক্তি ও পাঠকদের চাহিদার সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে কার্যত এক-তৃতীয়াংশ কর্মীকে ছাঁটাই করার পথে হাঁটল এই প্রভাবশালী সংবাদপত্র। আর এই ছাঁটাইয়ের কোপ পড়েছে ভারতের কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুরের(Sashi Tharoor) পুত্র তথা জনপ্রিয় কলামিস্ট ইশান থারুরের (Ishan Tharoor)ওপর। দীর্ঘদিনের কাজের জায়গা থেকে কার্যত চাকরি হারাতে হল ইশানকে।

২০১৭ সাল থেকে ‘ওয়ার্ল্ড ভিউ’(World view) কলামের মাধ্যমে বিশ্ব রাজনীতিকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছিলেন ইশান। বুধবার নিজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় চাকরি চলে যাওয়ার খবরটি জানান তিনি। ইশান লেখেন, অফিসের শেষ দিনটি তাঁর জন্য অত্যন্ত কষ্টের ছিল। প্রায় ৩০০ জন সহকর্মীর সঙ্গে তাঁকেও এবার সংস্থা থেকে বিদায় নিতে হচ্ছে। আরও পড়ুন: বাংলার যুব সাথী: বাংলার যুবদের জন্য নয়া প্রকল্প ঘোষণা, কত টাকা মিলবে

সংস্থার এই কঠোর সিদ্ধান্তে কার্যত তছনছ হয়ে গিয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ। জানা গিয়েছে, বন্ধ হচ্ছে বিশেষ বিভাগ – সংস্থার ‘ক্রীড়া’ এবং ‘বই পর্যালোচনা’র বিভাগ দুটি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ওয়াশিংটন পোস্টের এই গণছাঁটাইয়ের তালিকায় ইশানের পাশাপাশি রয়েছেন দিল্লি ব্যুরো চিফ (Bureau chief of Delhi) প্রাংশু ভার্মা(Prangshu verma), কায়রোর ব্যুরো চিফ (bureau chief Cairo) ক্লেয়ার পার্কার(Claire Parker) এবং ইউক্রেন যুদ্ধের মাঠ থেকে খবর পাঠানো সাংবাদিক লিজি জনসনের (Lizzie Johnson) মতো ব্যক্তিত্বরা। শুধু তাই নয়, টেক কলামনিস্ট (Tech columnist)জিওফ ফাউলার (Geoffrey A. Fowler) এবং ম্যাগাজিন এডিটর (Magazine editor)জ্যাকব ব্রোগানও(Jacob Brogan) বাদ যাননি। সংস্থার এক্সিকিউটিভ এডিটর(Executive editor) ম্যাট মারে (Matt Murray) এই পদক্ষেপকে ‘অপরিহার্য’ বলে দাবি করেছেন। তাঁর মতে, আধুনিক প্রযুক্তি এবং পাঠকদের নতুন রুচির সঙ্গে মানিয়ে নিতেই এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।

তবে এই গণছাঁটাই নিয়ে সরব হয়েছেন সংবাদপত্রের প্রাক্তন সম্পাদক মার্টিন ব্যারন(Martin Baron)। তিনি কড়া সমালোচনা করে বলেন, এভাবে বিদেশি ব্যুরোগুলি বন্ধ করে দিলে সংবাদপত্রের নিজস্ব ব্র্যান্ড ইমেজের অপূরণীয় ক্ষতি হবে। বিশেষ করে জেরুজালেম এবং ইউক্রেনের মতো উত্তপ্ত পরিস্থিতির খবর পেতে পাঠকদের সমস্যায় পড়তে হবে এবং সংবাদ পরিবেশনের মানও ধাক্কা খাবে।

–

–

–

–

–

–


