শত বঞ্চনা সত্ত্বেও আমরা আর্থিক শৃঙ্খলা ভাঙিনি। এফআরবিএম-এর সব নিয়ম মেনেই রাজ্য চালাচ্ছি। কিন্তু কেন্দ্র সেই নিয়ম মানে না। ভোটের আগে বাজেট (State Budget 2026) ঘোষণা করে সাংবাদিক বৈঠকে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বৃহস্পতিবার, বিধানসভায় ভোট অন অ্যাকাউন্ট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। রাজ্যে বেকারত্ব কমেছে ৪৫.৬৫ শতাংশ। প্রায় ১ কোটি ৭২ লক্ষ মানুষকে দারিদ্রসীমার বাইরে এনে দেওয়া সম্ভব হয়েছে- জানান মুখ্যমন্ত্রী।

ভোটের আগে বাজেট পেশের পরে সাংবাদিক বৈঠকে ফের কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগে সরব হন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। তাঁর কথায়, “শত বঞ্চনা সত্ত্বেও আমরা আর্থিক শৃঙ্খলা ভাঙিনি। এফআরবিএম-এর (FRBM) সব নিয়ম মেনেই রাজ্য চালাচ্ছি। অথচ কেন্দ্র নিজেরাই সেই নিয়ম মানে না।“

কেন্দ্রের বঞ্চনা সত্ত্বেও রাজ্যের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির পরিসংখ্যানও তুলে ধরেন মমতা (Mamata Banerjee)। তিনি জানান, আমলে রাজ্যে বেকারত্ব কমেছে ৪৫.৬৫ শতাংশ। পাশাপাশি প্রায় ১ কোটি ৭২ লক্ষ মানুষকে দারিদ্রসীমার বাইরে এনে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। কটাক্ষ করে মমতা বলেন, “যারা মুখে বলে তারা করে না, যারা করে তারা বলে না।“

কেন্দ্রীয় বাজেটের সমালোচনা করে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আপনারা দেখেছেন, কেন্দ্রীয় বাজেট দিশাহীন, ভবিষ্যৎহীন, কর্মহীন। আমরা এখন গর্ব করে বলতে পারি, আমাদের ক্ষুদ্র প্রচেষ্টার মধ্যে এই বাজেট তৈরি করতে পেরেছি। এত কেন্দ্রীয় বঞ্চনা সত্ত্বেও এটা করতে পেরেছি। আশা করি, মানুষ আমাদের উপর ভরসা রাখবে। আমি একা কিছু করিনি। সকলে মিলে করেছি। প্রত্যেক এজেন্সির লাঞ্ছনা সত্ত্বেও আমরা লড়ে যাচ্ছি। মানুষের ভরসা আছে আমাদের সঙ্গে।“

কেন্দ্রের কাছে এখনও রাজ্যের ২ লক্ষ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। ‘শুয়োরানি-দুয়োরানি’র উপমা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, “বাংলাকে ওরা বঞ্চনা করেই চলেছে। যেখানে পারছে, বাংলাদেশি বলে মারধর করে দিচ্ছে। অন্তঃসত্ত্বাকেও ছাড়া হচ্ছে না। কোনও টাকাই দিচ্ছে না। শুধু নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত।“

রাজ্যের উন্নয়নের পরিসংখ্যান তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, “এত দিন রাজ্যে ৯৪টি প্রকল্প ছিল। আজ মনে হয় আরও ৫-৬টি নতুন প্রকল্পের ঘোষণা হয়েছে। সুতরাং সেঞ্চুরি হয়ে গেল।“ কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে কেন্দ্রের রিপোর্ট উল্লেখ করে মমতা জানান, “কেন্দ্রের রিপোর্ট অনুযায়ী, বেকারত্ব ৪৫.৬৫ শতাংশ কমেছে পশ্চিমবঙ্গে।“ মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “এর জন্য আমরা সকলের কাছে কৃতজ্ঞ। এর মধ্যে আমরা ১ কোটি ৭২ লক্ষের বেশি মানুষকে দারিদ্রসীমা থেকে বার করে এনেছি।“ ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের কাজও শুরু হয়েছে বলে জানান রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান।
আরও খবর: বাংলার মহিলাদের হাসি চওড়া, বাড়ল ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর আর্থিক সাহায্য

মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “ভোট আসছে বলে অনেক কিছু বললাম, আর পরে করলাম না—এটা আমরা করি না। কথা দিলে কথা রাখি। আগেও ভোটের মুখে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তা রক্ষা করেছি। এটা মানুষের ধর্ম হওয়া উচিত।“ এই বাজেট বাংলার মানুষের গর্ব-দাবি রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের।

–

–

–


