বিধানসভায় আগামী অর্থবর্ষের প্রথম চার মাসের অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ করলেন রাজ্যের অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য (Chandrima Bhattachariya)। বাজেট পেশের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতির খতিয়ান তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। একদিকে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ এবং অন্যদিকে বাম আমলের ঋণের বোঝা সামলে রাজ্য কীভাবে উন্নয়নের পথে এগোচ্ছে, এদিন তারই বিস্তারিত রূপরেখা দিয়েছেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, চরম আর্থিক প্রতিকূলতার মধ্যেও রাজ্যে জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলি সচল রাখা হয়েছে। কেন্দ্রের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, বাংলার প্রতি বিমাতৃসুলভ আচরণ করা হচ্ছে। ১০০ দিনের কাজ থেকে শুরু করে গ্রামীণ রাস্তার প্রকল্প— গত পাঁচ বছর ধরে বহু টাকা আটকে রাখা হয়েছে। কেন্দ্রের কাছে রাজ্যের মোট পাওনা বকেয়া প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, সীমান্ত রক্ষা থেকে শুরু করে প্রাকৃতিক বিপর্যয় বা অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনায় রাজ্য নিজের সীমিত সামর্থ্য দিয়েই লড়াই করছে।

রাজ্যের ঋণের বোঝা ও আর্থিক শৃঙ্খলা নিয়ে আশার কথা শুনিয়েছেন মুখ্য অর্থ উপদেষ্টা অমিত মিত্র। তিনি জানান, রাজ্যে রাজস্ব ঘাটতি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। আগে যেখানে এই ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৩.৭৫ শতাংশ, তা বর্তমানে কমে দাঁড়িয়েছে ১.০১ শতাংশে। রাজকোষ ঘাটতিও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে তাঁর দাবি। পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, রাজ্যের জিডিপি-র নিরিখে ঋণের বোঝা ৪০.৬৫ শতাংশ থেকে কমে ৩৭.৯ শতাংশে নেমে এসেছে।

সরকারের দাবি অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে প্রায় ১ লক্ষ ৮৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হলেও একইসঙ্গে ১ লক্ষ ৫০ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ শোধ করা হয়েছে। এর মধ্যে বাম আমলের প্রায় আড়াই লক্ষ কোটি টাকার বকেয়া ঋণের কিস্তি মেটানোর বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী এদিন ফের মনে করিয়ে দেন, বিপুল এই ঋণভার সত্ত্বেও লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বা কন্যাশ্রীর মতো সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলি আর্থিক শৃঙ্খলার সঙ্গেই চালানো সম্ভব হচ্ছে।

আরও পড়ুন- টিকিটের চাহিদা নেই, উন্মাদনা উধাও, বিশ্বকাপের আগে অচেনা ইডেন

_

_

_

_

_
_

