একদিন পর শুরু আইসিসির মেগা ইভেন্ট। কিন্তু টি২০ বিশ্বকাপ (T20 World cup) শুরুর আগে এ কোন ইডেন(Eden)? ১৯৮৭ সাল থেকে ঐতিহ্যের ইডেনে হয়ে আসছে আইসিসি(ICC) টুর্নামেন্টের ম্যাচ তবে এমন দৃশ্য অতীতের কখনও দেখা যায়নি। সাধারণ মানুষের আগ্রহ নেই, টিকিটের চাহিদা নেই, উন্মাদনার বিন্দু মাত্র নেই। গোষ্ঠ পাল সরণীর চিত্র দেখে বোঝা দায় পরশু বিশ্বকাপ না রঞ্জি ম্যাচ!

গ্রুপ পর্বে ভারতীয় দলের ম্যাচ পায়নি সিএবি। বাংলাদেশ নাম প্রত্যাহার করায় তাদের পরিবর্তে এসেছে স্কটল্যান্ড। পদ্মাপাড়ের দল এলে যে টুকু আগ্রহ বা জৌলুস থাকত সেটাও উধাও। স্কটল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইতালি বা ইংল্যান্ডের খেলা নিয়ে বঙ্গজ ক্রিকেট প্রেমীদের আগ্রহ নেই।

সিএবি সূত্র বলছে , বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজ স্কটল্যান্ড ম্যাচের টিকিট বিক্রি হয়েছে ৩৪৮ টা! কমপ্লিমেন্টারি টিকিটের খাম নিয়ে যাচ্ছেন কর্তাদের ঘর থেকে কিন্তু আদৌও এই টিকিট নিয়ে কতজন খেলা দেখতে আসবেন তা নিয়ে সন্দিহান খোদ শীর্ষ কর্তারাই। ৬২ হাজারের ইডেনে মেরে কেটে ৫ হাজার ভোরে গেলেই ইডেনের সুনাম রক্ষিত হয়।

শনিবার স্কটল্যান্ড ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচ দিয়ে ইডেনে হবে বিশ্বকাপের বোধন। এমন একটা ম্যারম্যারে ম্যাচ যে খুব রং চড়ালে বা বিশেষ কিছু করলেও লোক আসবে না এটা বুঝে গিয়েছেন কর্তারা। তাই ম্যাচে বিশেষ কোনও ভাবনা নেই সিএবির। বরং সিএবির চিন্তা ইডেন বেল বাজানোর জন্য সম্মানীয় কাউকে জোগাড় করা। স্কটল্যান্ড তো দূরের কথা ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়কের নাম বর্তমানে কত জানে সেটাই লাখ টাকার প্রশ্ন। ফলে কোনও ধারাভাষ্যকারকে দিয়ে কাজটা নম নম করে সারতে চাইছেন বঙ্গ ক্রিকেট কর্তারা।

গোটা কলকাতায় বিশ্বকাপের হোর্ডিং দু একটা আছে। গোষ্ঠ পাল রোডে সেটাও এখনও নেই। তবে ইডেন সাজছে বিশ্বকাপের জন্য। বিশ্বকাপের ফ্লেক্সে মুড়ে ফেলা হয়েছে গোটা ইডেন ও ক্লাব হাউস। বৃহস্পতিবারই ওয়েস্ট ইন্ডিজ স্কটল্যান্ড দুই দল কলকাতায় চলে এসেছে শুক্রবার ইডেনে অনুশীলন করে শনিবার খেলতে নামবে প্রথম ম্যাচ।

সিএবিতে (CAB) প্রবেশ করলে আইপিএল বা ভারতের ম্যাচের আগে যে গমগমে ব্যাপার থাকে সেটা চোখে পড়ছে না। কর্মকর্তাদের ঘরের সামনে টিকিট প্রত্যাশীদের জটলা নেই। আন্তর্জাতিক মিডিয়া তো দূরের কথা জাতীয় স্তরের মিডিয়াও নেই।

ইডেনের ঠিই বিপরীতেই বিধানসভা সারাদিন গমগমে থাকল। বাজেট নিয়ে শাসক বিরোধী তরজা, সাংবাদিকদের ব্যস্ততা, ক্যামেরার ফ্ল্যাশ, আর বিশ্বকাপের ইডেনে শুধুই নীরবতা আর অপেক্ষা সুপার ৮-র যদি ভারতেরভ ম্যাচটা পরে।

সিএবির কোষাধ্যক্ষ সঞ্জয় দাস বললেন, মাঝে মধ্যে বাস্তব পরিস্থিতিকে মেনে নিতে হয়। আমরা খুব জোরে ১৫০০জন স্কুলের স্টুডেন্ট আনতে পারি খেলা দেখানোর জন্য। পুলিশের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়েছে আমরা তৈরি কিনা আমরা বলে দিয়েছি সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

আইপিএলের দাপটে কমছে জাতীয় দলের প্রতি আগ্রহ। তার উপর দু বছর অন্তর টি২০ বিশ্বকাপ। ইডেনে ছবি দেখে মনে হচ্ছে ক্রিকেট কি গ্যালারির জনপ্রিয়তা হারিয়েছে? শুধু মোবাইল ফোনেই সীমাবদ্ধ ২২ গজের জনপ্রিয়তা।

–
–
–
–
–
–

