খেলার মাঠ থেকে অভিনয়ের মঞ্চ— রাজ্যের পরিকাঠামোয় আমূল বদল আনতে বড়সড় ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। হাওড়ার ডুমুরজলায় প্রস্তাবিত ‘স্পোর্টস সিটি’-র কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। এবার তাকে টেক্কা দিতে কলকাতার ঠিক পাশেই বারুইপুরে গড়ে তোলা হবে আস্ত এক ‘সংস্কৃতি শহর’। বিধানসভায় অন্তর্বর্তী বাজেট বক্তৃতায় রাজ্যের এই নতুন পরিকল্পনার কথা বিশদে জানান অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য (Chandrima Bhattachariya)।

নবান্ন সূত্রের খবর, বারুইপুরের বর্তমান টেলি অ্যাকাডেমিকে কেন্দ্র করেই এই আধুনিক সংস্কৃতি শহর বা কালচারাল সিটি গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। শিল্প ও সংস্কৃতির চর্চাকে আরও পেশাদার স্তরে নিয়ে যেতেই এই উদ্যোগ। পাশাপাশি, রাজ্যের ছোট ও মাঝারি শহরগুলিকে ঢেলে সাজানোর জন্য একটি সামগ্রিক রূপরেখা গ্রহণ করেছে রাজ্য সরকার। লক্ষ্য একটাই— শহরগুলিকে বাণিজ্য ও কর্মসংস্থান-বান্ধব করে তোলা। এই তালিকায় হাওড়া, বর্ধমান, শিলিগুড়ি থেকে শুরু করে জঙ্গলমহলের ঝাড়গ্রাম কিংবা পাহাড়ের দার্জিলিং— সব জায়গাকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

আধুনিকীকরণের এই মহাপরিকল্পনায় রয়েছে ডিজিটাল পরিকাঠামো এবং উন্নত নাগরিক পরিষেবা। বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে ডায়মন্ড হারবার, বোলপুর, কৃষ্ণনগর, বারাসাত, রায়গঞ্জ ও মালদার মতো বর্ধিষ্ণু শহরগুলির ওপর। বাদ যাচ্ছে না দুর্গাপুর, অন্ডাল, বাঁকুড়া বা পুরুলিয়ার মতো শিল্প ও পর্যটন নির্ভর এলাকাগুলিও। এমনকি দিঘা, মেদিনীপুর ও কোচবিহারের মতো জেলা সদরগুলিকেও এই প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। নিউটাউনের এন.কে.ডি.এ এলাকাকে এই বিবর্তনের মডেল হিসেবে ব্যবহারের কথা ভাবছে সরকার।

তবে শহর সংস্কারের এই কর্মযজ্ঞে সাধারণ মানুষের যাতে কোনো অসুবিধা না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক প্রশাসন। জানা গিয়েছে, এই সামগ্রিক আধুনিকীকরণ প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সুযোগ-সুবিধা অটুট রেখে কীভাবে প্রকল্পের কাজ এগোবে, তা খতিয়ে দেখবে এই কমিটি। ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সমীক্ষা শেষ করে সরকারের কাছে বিশদ রিপোর্ট জমা দেওয়ার সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন- পাকিস্তান না খেললেও ভারত প্রস্তুত, ম্যাচ বয়কট ইস্যুতে সলমনদের কটাক্ষ সূর্যকুমারের

_

_

_

_

_
_

