রাজ্য বাজেটে জনমোহিনী প্রকল্পের ডালি সাজিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিশেষ করে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে শুরু করে আশা ও সিভিক ভলান্টিয়ারদের ভাতা বৃদ্ধি— সব মিলিয়ে সরকারের এই ‘মাস্টারস্ট্রোক’কে এবার হাতিয়ার করে ময়দানে নামল শাসকদল। কোচবিহার থেকে কাকদ্বীপ, শুক্রবার রাজ্যজুড়ে সাংবাদিক বৈঠক করে বাজেটের সুফল সাধারণ মানুষের দুয়ারে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই প্রচারে নামল তৃণমূল কংগ্রেস।

বৃহস্পতিবার বিধানসভায় অন্তর্বর্তীকালীন বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। সেই বাজেটে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের বরাদ্দ একলাফে অনেকটা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে সিভিক ভলান্টিয়ার, শিক্ষাবন্ধু এবং আশাকর্মীদের আর্থিক সুরাহার কথা মাথায় রেখে একগুচ্ছ ঘোষণা করেছে নবান্ন। ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সিদের জন্য ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের সূচনাও নজর কেড়েছে রাজনৈতিক মহলের। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এই বাজেট আসলে ‘মানুষের বাজেট’। কেন্দ্রের বিমাতৃসুলভ আচরণের পালটা হিসেবেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

দলের এই বার্তা জনমানসে ছড়িয়ে দিতে এদিন উত্তর থেকে দক্ষিণবঙ্গের প্রতিটি জেলায় সাংবাদিক বৈঠকে বসেন তৃণমূল নেতা, মন্ত্রী ও বিধায়করা। প্রতিটি বৈঠকে মহিলাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তৃণমূল নেতাদের দাবি, মোদী সরকার যেখানে কেবল প্রতিশ্রুতির কথা বলে, সেখানে বাংলার নেত্রী কথা রাখলেন। সুন্দরবনের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে দার্জিলিংয়ের পাহাড়— সর্বত্র যাতে এই সরকারি পরিষেবার বার্তা পৌঁছায়, সেদিকেই নজর দেওয়া হচ্ছে।

বিরোধীরা অবশ্য এই বাজেটের তীব্র সমালোচনা করেছে। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, লোকসভা ভোটকে সামনে রেখেই এই খয়রাতির রাজনীতি। তবে শাসকদল সেই সমালোচনাকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। তাদের পাল্টা যুক্তি, সাধারণ মানুষের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরাতে এই সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলি অত্যন্ত জরুরি ছিল। এদিন সাংবাদিক বৈঠকগুলি থেকে তৃণমূল নেতৃত্ব স্পষ্ট করে দিয়েছেন, আগামী দিনে এই বাজেটের প্রাপ্তিকেই প্রচারের মূল অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করবেন তাঁরা।

আরও পড়ুন – ইডেনে দশ বছর আগে স্মৃতি ফেরানোই লক্ষ্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের, সিএবির ব্যবস্থাপনায় খুশি লালবাজার

_

_

_

_

_
_

