ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের কাজে বড়সড় বদল আনল নির্বাচন কমিশন। এখন থেকে স্থায়ী বাসিন্দা শংসাপত্র বা পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট সার্টিফিকেটকে (পিআরসি) বৈধ নথি হিসেবে গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এই মর্মে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালকে চিঠি পাঠিয়ে নিজেদের সিদ্ধান্ত স্পষ্ট করেছে কমিশন।

শনিবার পাঠানো ওই চিঠিতে কমিশন জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর জারি হওয়া বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর সংক্রান্ত নির্দেশিকা অনুযায়ী, স্থায়ী বাসিন্দা শংসাপত্রকে যোগ্যতার প্রমাণ হিসেবে গণ্য করা যাবে। তবে এই শংসাপত্রটি অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নির্ধারিত নিয়ম মেনে এবং উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের দ্বারা ইস্যু হতে হবে। চিঠিতে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, ১৯৯৯ সালের ২ নভেম্বরের রাজ্য সরকারি নির্দেশিকা এবং তার পরবর্তী সংশোধনী মেনেই এই ডোমিসাইল সার্টিফিকেট গ্রহণ করা হবে। জেলাশাসক, অতিরিক্ত জেলাশাসক, মহকুমাশাসক অথবা কলকাতার ক্ষেত্রে কালেক্টরের জারি করা শংসাপত্রই কেবল ভোটার তালিকায় নাম তোলার ক্ষেত্রে বৈধ বলে বিবেচিত হবে।

কমিশনের এই সিদ্ধান্তের ফলে ভোটার তালিকা সংশোধনের সময়সীমা এবং চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের দিনক্ষণ নিয়ে নতুন জল্পনা তৈরি হয়েছে। ঘটনাচক্রে, আজ ৭ ফেব্রুয়ারি শুনানি পর্বের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে নতুন এই নির্দেশের ফলে শুনানির সময় বাড়ানো হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তেমনটা হলে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশও পিছিয়ে যেতে পারে। ইতিপূর্বেই উত্তরপ্রদেশে ভোটার তালিকা প্রকাশের দিন ৬ মার্চের পরিবর্তে ১০ এপ্রিল করা হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গেও কি তবে একই পথে হাঁটবে কমিশন? এই প্রশ্নের উত্তরে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল জানান, বিষয়টি এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। বিভিন্ন জেলার জেলা নির্বাচনী আধিকারিক বা ডিইও-দের কাছ থেকে রিপোর্ট পাওয়ার পরেই এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ভোটার তালিকা সংক্রান্ত দায়িত্বে থাকা ইআরও এবং এআরও-দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে তাঁরা কেবলমাত্র নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের দেওয়া বৈধ শংসাপত্রই গ্রহণ করেন এবং এই প্রক্রিয়ায় কোনও শিথিলতা না রাখা হয়।

আরও পড়ুন- সিলেবাস শেষ হয়নি! এক মাস পিছিয়ে গেল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষা

_

_

_

_

_
_

