বাম সমর্থিত একাধিক শ্রমিক সংগঠনের ডাকা চব্বিশ ঘণ্টার দেশব্যাপী ধর্মঘটের মোকাবিলায় কড়া অবস্থান নিল রাজ্য প্রশাসন। আগামীকাল, বৃহস্পতিবার ১২ ফেব্রুয়ারি ধর্মঘটের জেরে জনজীবন স্তব্ধ হওয়ার আশঙ্কায় বুধবারই নবান্ন স্পষ্ট জানিয়ে দিল, ওই দিন রাজ্য সরকারি এবং সরকার পোষিত সমস্ত দফতর খোলা রাখতে হবে। শুধু তাই নয়, কাজে যোগ না দিলে সংশ্লিষ্ট কর্মীর বিরুদ্ধে কড়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।

রাজ্য অর্থ দফতরের পক্ষ থেকে বুধবার এই সংক্রান্ত একটি নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে সাফ জানানো হয়েছে, বিশেষ জরুরি কারণ ছাড়া বৃহস্পতিবার প্রতিটি সরকারি কর্মীকে নিজেদের দফতরে হাজিরা দিতে হবে। যদি কেউ ওই দিন কাজে যোগ না দেন, তবে তাঁর একদিনের বেতন কাটা হবে। একইসঙ্গে ওই দিনটিকে সংশ্লিষ্ট কর্মীর কর্মজীবন (সার্ভিস লাইফ) থেকেও বাদ দেওয়া হবে অর্থাৎ ‘ডাইস নন’ হিসেবে গণ্য করা হবে। নবান্নের এই কড়া অবস্থানে স্পষ্ট যে, ধর্মঘট রুখতে কোনওরকম আপস করতে নারাজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার।

তবে মানবিক কারণে কিছু ক্ষেত্রে এই নির্দেশিকায় ছাড় দেওয়া হয়েছে। নবান্ন জানিয়েছে, কোনো কর্মী যদি হাসপাতালে ভর্তি থাকেন বা পরিবারের কোনও সদস্যের মৃত্যু ঘটে, তবে তাঁদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকর হবে না। এছাড়াও যাঁরা আগে থেকেই গুরুতর অসুস্থতার কারণে ছুটিতে রয়েছেন অথবা ১১ ফেব্রুয়ারির আগে থেকেই মাতৃত্বকালীন ছুটি, চিকিৎসা সংক্রান্ত ছুটি, চাইল্ড কেয়ার লিভ বা আর্নড লিভ ভোগ করছেন, তাঁদের এই নির্দেশিকার আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, বৃহস্পতিবার অনুপস্থিত কর্মীদের অবিলম্বে কারণ দর্শানোর নোটিশ বা ‘শো-কজ’ পাঠানো হবে। উপযুক্ত কারণ দেখাতে পারলে এবং কর্তৃপক্ষ তাতে সন্তুষ্ট হলে তবেই ছুটি মঞ্জুর করা হবে। নচেৎ, উত্তর সন্তোষজনক না হলে বা জবাব না দিলে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে কড়া পদক্ষেপ নেবে প্রশাসন। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ধর্মঘটের দিন হাজিরা সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট অর্থ দফতরে জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বিভাগীয় প্রধানদের। সব মিলিয়ে, বামেদের ডাকা এই ধর্মঘটের দিনে প্রশাসনিক কাজকর্ম স্বাভাবিক রাখাই এখন সরকারের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।

আরও পড়ুন- অ্যাডামাস ইউনিভার্সিটির নবম সমাবর্তন: বারাসত ক্যাম্পাসে সাম্মানিক ১,৫২৭ পড়ুয়াকে

_

_

_

_

_
_


