বিজেপি বাঙালিদের প্রতি অতি শ্রদ্ধাশীল, আচমকাই দেশজুড়ে তা প্রমাণে মরিয়া মোদি সরকার। তা করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত বাঙালির দুই বরেণ্য প্রাণপুরুষ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (Rabindranath Tagore) ও বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের (Bankim Chandra Chattopadhyay) মধ্যেই প্রতিযোগিতা শুরু করে দিয়েছে অমিত শাহর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক (MHA)। আদতে তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, দাবি বাংলার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের। তবে বাংলা কোনওভাবেই বিজেপির সেই চক্রান্তে যে পা দেবে না, তাও পরিষ্কার করে দেওয়া হল দলীয়ভাবে। কার্যত রবীন্দ্রনাথ ও বঙ্কিমচন্দ্রকে মূল্যায়ণ করার যে ধৃষ্টতা বিজেপি দেখিয়েছে, তার সমালোচনায় বাংলার শাসকদল।

বিজেপির আচমকা সম্মান প্রদর্শন নিয়ে তৃণমূল রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ জানান, যে নির্দেশ এসেছে আমরা গর্বিত, যে দুজনেই যারা লিখেছেন তারা বাংলার সুযোগ্য সন্তান। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

তবে জাতীয় সঙ্গীতের আগে বন্দোমাতরম (Vande Mataram) গাওয়ার যে বাধ্যবাধকতা কেন্দ্রের মোদি সরকার খাঁড়া করেছে তার পিছনে যে কোনও মহৎ উদ্দেশ্য তাঁদের নেই, তা স্পষ্ট করে কুণাল দাবি করেন, যে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে ‘বঙ্কিমদা’ বলে অসম্মান করেছেন প্রধানমন্ত্রী, আজ পর্যন্ত ক্ষমা চাননি। একের পর এক বাঙালি মনীষীদের যারা নাম বিকৃত করেছেন। অসম্মানিত করেছেন। তাঁরা হঠাৎ এই বিষয়ে উদ্যোগী হয়েছেন অন্য কারণে। তাতে মূল শ্রদ্ধা জানানোর বিষয় নেই।

বাংলার সব অধিকারে রাজনীতি, পরিচয়ে রাজনীতির পরে এবার বঙ্গ সংস্কৃতিতেও রাজনীতির বিষ ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টায় কেন্দ্রের মোদি সরকার। সেই উদ্দেশ্য তুলে ধরে কুণাল ঘোষ স্পষ্ট করে দেন, পরিকল্পিতভাবে বঙ্কিম বনাম রবীন্দ্রনাথ – একটা পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছে বিজেপি। দীর্ঘদিন ধরে ‘বন্দেমাতরম’ (Vande Mataram) বনাম ‘জনগণমন’ (Jana Gana Mana) ন্যারেটিভ তৈরি করতে চাইছে বিজেপি। আমরা কোনও অবস্থায় তার মধ্যে পড়বো না। আমরা বিজেপিকে মনে করিয়ে দেব বন্দেমাতরম বিপ্লবের মন্ত্র। কিন্তু বন্দেমাতরম মন্ত্রকে কিভাবে মূল্যায়ন করতে হবে সেটা স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলে গিয়েছেন।

আরও পড়ুন : বাংলার ভোটের আগে ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে নতুন নাটক কেন্দ্রের!

আদতে এবার বিজেপি যে নিজেদের বাংলার মনীষীদের যোগ্যতা নিরুপণ করার উপযুক্ত বলে নিজেদের মনে করছে, বন্দেমাতরম নিয়ে নির্দেশিকার ইস্যুতে সেটাই প্রমাণিত হয়। সেখানেই কুণাল ঘোষ প্রশ্ন তোলেন, এই বিজেপি গানের মূল্যায়নে রবীন্দ্রনাথের উপরে ভাবে নিজেদের। গানের মূল্যায়নে কোনটা বিপ্লবের মন্ত্র আর কোনটা সর্ব ধর্মের, সব শ্রেণীর মানুষের মিলনক্ষেত্রের বার্তা, জাতীয় সংহতির বার্তা – এ বিষয়ে স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যে মূল্যায়ন করেছিলেন তাতে নেতাজি থেকে গান্ধীজি সকলে একমত ছিলেন। অমিত শাহ (Amit Shah) নিশ্চয়ই এদের উপর নন।

–

–

–

–


