কাচ তোলা গাড়ির বাইরে পাহারা দিচ্ছে বন্ধু, আর ভেতরে নাবালিকার উপর নারকীয় অত্যাচার চলছে! মধ্যপ্রদেশের ভোপালে একাদশ শ্রেণির ছাত্রীর গণধর্ষণের হাড়হিম করা ঘটনায় শিউরে উঠছে দেশ। শুধু যৌন নির্যাতনই (Gang rape) নয়, আইফোনে (Iphone ) সেই মুহূর্তের ভিডিও রেকর্ড করে দিনের পর দিন ব্ল্যাকমেল করার অভিযোগ উঠেছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যেই বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করেছে পুলিশ।ঘটনায় মূল অভিযুক্ত আউসাফ আলি খানকে ৩ ফেব্রুয়ারি গ্রেফতার করা হয়েছে।

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, ওই নাবালিকাকে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে চার-চারটি আলাদা গাড়িতে নিয়ে গিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে। মূল অভিযুক্ত আউসাফ আলি খান এবং তার বন্ধু মাজ খান (যিনি পেশায় একটি জিমের মালিক) পরিকল্পনা করেই এই ছক কষেছিল।আউসাফকে জেরা করতেই বেরিয়ে আসে সহযোগী মাজের নাম। জানা গেছে, খানুগাঁও এলাকায় একটি থার এসইউভির (Thar SUV) ভেতর যখন আউসাফ ওই নাবালিকাকে নির্যাতন করছিল, তখন মাজ বাইরে দাঁড়িয়ে জানলা দিয়ে আইফোনে তার ভিডিও রেকর্ড করে।এমনকি ভিডিও ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ওই ছাত্রীর কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, ভয় দেখিয়ে বারবার তাকে শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করা হত বলেও অভিযোগ।

এই ঘটনার তদন্তে নেমে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য পাচ্ছে এসিপি (ACP Ankita Khatrakar) অঙ্কিতা খাত্রাকারের নেতৃত্বাধীন সিট (SIT)। অপরাধে ব্যবহৃত থার গাড়িটি পুলিশ সেহোর জেলার একটি গ্রাম থেকে উদ্ধার করেছে। মোট চারটি গাড়ি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। নির্যাতনের ভিডিও যে আইফোনটিতে রেকর্ড করা হয়েছিল, সেটি উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। তদন্তে জানা গেছে অভিযুক্ত মাজ খানের সঙ্গে কোহেফিজা থানার এক হেড কনস্টেবলের (Head constable) ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। মাজের কাছে গোপন তথ্য পাচারের অভিযোগে ওই পুলিশ কর্মীকে ইতিমধ্যেই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।নির্যাতিতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সমস্ত প্রমাণ সংগ্রহের কাজে জোর দিচ্ছে প্রশাসন।মূল অভিযুক্ত আউসাফ জেল হেফাজতে রয়েছে এবং সহযোগী মাজ খানকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রিমান্ডে নিয়েছে কোহেফিজা থানার পুলিশ।

–

–

–

–

–

–

–


