মার্চের শুরুতেই রাজ্যে নির্বাচন ঘোষণার প্রস্তুতি জাতীয় নির্বাচন কমিশনের। ফেব্রুয়ারি শেষ হওয়ার আগেই ভোটার তালিকার কাজ শেষ করার প্রতিশ্রুতি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক দিল্লিতে গিয়ে দিয়ে এসেছেন। নির্বাচনমুখী বঙ্গে প্রতি সপ্তাহ, প্রতিদিন দিল্লির নেতারা এসে বিজেপি কর্মীদের মনোবল বাড়ানোর কাজ করছেন। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলের হাতিয়ার কেন্দ্রীয় বাজেটে (Union Budget 2026) বাংলার প্রতি বঞ্চনা। সেই পরিস্থিতিতে মার্চের মাঝামাঝি বঙ্গ সফরে আসতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। বিজেপি শিবিরও তার প্রস্তুতি শুরু করেছে। নির্বাচন (assembly election) ঘোষণার আগেই সেই সফর থেকে বাংলার জন্য নতুন কোনও ঘোষণা তিনি করতে পারেন, এমনটা আশা বঙ্গ বিজেপির (BJP Bengal)। একমাত্র তাতেই ফের বাংলায় ঘুরে দাঁড়ানোর আশা জাগতে পারে দলীয় কর্মীদের মধ্যে, মত বঙ্গ নেতাদের।

নির্বাচন ঘোষণা হয়ে গেলে নতুন ঘোষণার পথ নির্দেশিকা অনুযায়ী বন্ধ। মার্চের দ্বিতীয় অথবা তৃতীয় সপ্তাহে রাজ্যে আসতে পারেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar, CEC)। তার আগেই আসবে কমিশনের (Election Commission) অন্য শীর্ষ আধিকারিকরা। জ্ঞানেশ কুমারের আসার মধ্যে দিয়েই রাজ্যে নির্বাচন ঘোষণার সম্ভাবনা। সেক্ষেত্রে বাংলার জন্য কোনও ঘোষণা বিজেপিকে তার আগেই করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফর তাই মার্চের মাঝামাঝি স্থির করার পরিকল্পনা বিজেপির।

তবে এবার আর অন্য কোথাও নয়। ব্রিগেডে (Brigade) সভা করতে পারেন নরেন্দ্র মোদি। ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনের আগে ব্রিগেড থেকে সভা করে বাংলার মানুষের মন জয়ের চেষ্টা চালিয়েছিলেন মোদি। ২০২৬ নির্বাচনের (assembly election) আগেও একই পথে বিজেপি। ১৫ মার্চ ব্রিগেডে হতে পারে প্রধানমন্ত্রীর সভা। তবে দিন এখনও নির্ধারিত হয়নি। সেই সভাই বঙ্গ বিজেপির প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও বড় ভূমিকা নিতে চলেছে, বিজেপি সূত্রে খবর। ইতিমধ্যেই প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ দিল্লির নির্দেশে শুরু হয়ে গিয়েছে। সেক্ষেত্রে মোদির সভা থেকে প্রার্থীর নাম ঘোষণারও আশা করছে বঙ্গ বিজেপি। আর সেই কাজ প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে হলে দলের অন্তর্দ্বন্দ্বতেও রাশ টানা যেতে পারে বলে মত বঙ্গ নেতাদের।

আরও পড়ুন : মার্চেই মোদির ব্রিগেড, দোল মিটলেই রথযাত্রায় জনসংযোগ বাড়াতে চায় বিজেপি

বাংলার বঞ্চনার যে অভিযোগ বাংলার শাসকদল তৃণমূলের তরফ থেকে বারবার সাধারণ মানুষের কাছে তোলা হয়েছে, তার পাল্টা জবাব দিতে হিমসিম বঙ্গ বিজেপির নেতারা। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য অন্তর্বর্তী বাজেটে মহিলা, যুব সমাজের জন্য যে ঘোষণা করেছে, তার ভার এসে পড়েছে বাংলার বিজেপি নেতাদের উপর। শুধুমাত্র ধর্মীয় মেরুকরণের জোরে যে বাংলায় ভোটের লড়াই জেতা সম্ভব নয়, তা ২০২১ সালের নির্বাচনেই বুঝে গিয়েছে বিজেপি। এই সময়ে একমাত্র বাংলার জন্য কেন্দ্রের তরফে বড় সহযোগিতা মান রাখতে পারে বঙ্গ বিজেপির। নির্বাচন ঘোষণার আগে মোদির বঙ্গ সফর ও ব্রিগেডের সভা তাই বিজেপির কাছে আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ।

–

–

–

–

–


