রাজনৈতিক দড়ি টানাটানির মধ্যেই ব্যক্তিগত জীবনে নতুন অভিযোগের মুখে উত্তর দিনাজপুরের দলবদলু কংগ্রেস নেতা আলি ইমরান রমজ (Ali Imran Ramz), ওরফে ভিক্টর। একদিকে যখন তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে স্থানীয় মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে তখন খোদ তাঁর স্ত্রী তাঁর বিরুদ্ধে চারিত্রিক বদনামের অভিযোগ তুললেন। ভিক্টরকে নিয়ে যখন বিধানসভা নির্বাচনের (assembly election) আগে আশার আলো দেখছে কংগ্রেস ও বামদল উভয় পক্ষ, সেই সময়ই তাঁর বিরুদ্ধে স্ত্রীকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের (mental and physical torture) অভিযোগ।

উত্তর দিনাজপুরের চাকুলিয়া আসন থেকে ফরওয়ার্ড ব্লকের টিকিটে ভিক্টর ২০১১ থেকে ২০২১ বিধায়ক ছিলেন। পরাজয়ের পরে বাম শিবির ছেড়ে ২০২২ সালের অক্টোবরে অধীর চৌধুরী-র (Adhir Chowdhury) উপস্থিতিতে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস-এ যোগ দেন। তবে চলতি বিধানসভা নির্বাচন আবহে ফের একবার ভিক্টরকে দলে টানতে মরিয়া ফরওয়ার্ড ব্লক (Forward Block)। অন্যদিকে কংগ্রেসও তাকে দলে রাখতে মরিয়া। এই দড়ি টানাটানি যখন চলছে, তখনই ভিক্টরের জীবনের অন্য দড়িতে টান মারলেন তাঁর স্ত্রী প্রিয়াঞ্জলি নিয়োগী (Priyanjali Neogi)।

প্রিয়াঞ্জলির অভিযোগ, শ্বশুরবাড়িতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার। একটি ফ্ল্যাট কেনার জন্য তাঁর দিদার কাছ থেকে টাকা ধার নেওয়া হয়। শ্বশুরবাড়িতে মারধরের পরে থানায় অভিযোগ জানালেও তাতে কোনও অগ্রগতি হয়নি বলে তিনি জানান। শেষ পর্যন্ত দু’জনের মধ্যে ডিভোর্সের সিদ্ধান্ত হলেও, মিউচুয়াল ডিভোর্সের বদলে স্বামীর তরফে একাধিক শর্ত চাপানো হয় বলে অভিযোগ।

তিনি নির্দিষ্টভাবে ভিক্টরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন, স্বামী তাঁর নামে ফ্ল্যাট লিখে দিতে চাপ দেন এবং দুই সন্তানকে আলাদা করে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেন। ভোররাতে মারধর করে ঘরে আটকে রেখে কাগজে সই করানো হয়েছে বলেও অভিযোগ। একটি ফ্ল্যাট, গয়না ও জমানো টাকাও সেই তালিকায় রয়েছে। গত দু’বছর ধরে মামলা চললেও এখনও কোনও সুরাহা মেলেনি। উল্টে মামলা তুলে নিতে চাপ দেওয়া হচ্ছে এবং প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন : SIR হয়রানির পরেও কেন্দ্রের আর্থিক বঞ্চনা: রাজ্যের কৃষক-ক্ষেতমজদুরদের পাশে থাকার তথ্য পেশ তৃণমূলের

তবে এর পিছনে যে ভিক্টরের রাজনৈতিক দুর্নীতির প্রসঙ্গও জড়িয়ে রয়েছে, তাও স্পষ্ট করে দেন কংগ্রেস নেতার স্ত্রী। প্রিয়াঞ্জলির (Priyanjali Neogi) দাবি, ২০২২ সালের ভোটে হারের পর চার বছর ধরে কোনও পদ না থাকলেও বিপুল অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। এসব কারণেই আগে ফরওয়ার্ড ব্লক তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করেছিল বলে তাঁর দাবি। রবিবার কলকাতা প্রেস ক্লাবে একটি সাংবাদিক বৈঠক করে এই সব তথ্য প্রমাণ তুলে ধরেন তিনি। অভিযোগের সমর্থনে মারধরের ভিডিও প্রমাণও তিনি দেখান। তিনি জানান, বিষয়টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এবং কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) — উভয়ের কাছেই তুলে ধরেছেন। তাঁর আবেদন, যাঁরা ক্ষমতার অপব্যবহার করেন, এমন মানুষদের যেন রাজনৈতিক ক্ষমতা না দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে ন্যায়বিচার দাবি করেন তিনি।

–

–

–

–


