লক্ষ্য শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের স্বনির্ভরতার পথে এগিয়ে দেওয়া। সেই উদ্দেশ্যেই রাজ্য সরকারের নতুন প্রকল্প ‘যুবসাথী’র রেজিস্ট্রেশন ঘিরে রবিবার কার্যত উৎসবের চেহারা নিল গোটা বাংলা। দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার কাকদ্বীপ থেকে উত্তরের কালিম্পং— ছুটির দিনে জেলায় জেলায় ব্লক ও পঞ্চায়েত স্তরের ক্যাম্পগুলিতে আবেদনকারীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। ঝাড়গ্রামের রবীন্দ্র পার্ক থেকে সবংয়ের কৃষক বাজার, সব জায়গাতেই এদিন ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হয় প্রশাসনকে।

রাজ্যের অন্তর্বর্তী বাজেটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রকল্পের ঘোষণা করেছিলেন। মাধ্যমিক পাশ ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সি যুবক-যুবতীরা মাসে দেড় হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন। ১ এপ্রিল থেকে এই টাকা সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছনোর কথা। সেই লক্ষ্যেই রবিবার থেকে রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রে শুরু হয়েছে বিশেষ শিবির, যা চলবে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

এদিন উত্তর দমদম বিধানসভা কেন্দ্রের নববারাকপুর ও তরুণ সেনগুপ্ত স্মৃতি ভবনের শিবির পরিদর্শনে যান রাজ্যের অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। প্রকল্পের গুরুত্ব বুঝিয়ে তিনি বলেন, এটি কোনও সাধারণ অনুদান বা খয়রাতি নয়, বরং শিক্ষিত যুবক-যুবতীদের জন্য সরকারের এক ধরনের আর্থিক সহযোগিতা। তাঁর কথায়, যুবশ্রী এবং যুবসাথী— দু’টি প্রকল্পই সমান্তরালভাবে চলবে। মানুষের পাশে থাকাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

অন্য দিকে, জঙ্গলমহল ঝাড়গ্রামের রবীন্দ্র পার্কে আয়োজিত ক্যাম্পে হাজির ছিলেন বনমন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা। স্থানীয় যুবক-যুবতীদের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানান, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার ফর্ম ফিলাপ ও আনুষঙ্গিক খরচের জন্যই এই টাকা দেওয়া হচ্ছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের সবংয়ে সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়া এবং বারুইপুরে বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়কেও এদিন রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ার তদারকি করতে দেখা যায়। হুগলি, নদীয়া ও উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতেও এদিন সকাল থেকে আবেদনপত্র জমা দেওয়ার লম্বা লাইন পড়েছিল।

আরও পড়ুন- জঙ্গলমহলে স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে শুরু যুবসাথী ক্যাম্প, রবীন্দ্র পার্কে খতিয়ে দেখলেন মন্ত্রী বীরবাহা

_

_

_

_

_
_


