অটল বিহারী বাজপেয়ীর সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত রসায়ন যে কতটা গভীর ছিল, সোমবার এবিপি আনন্দকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফের তা মনে করিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৯৯৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের জন্মলগ্ন থেকে বাজপেয়ী সরকারের প্রতি নিঃস্বার্থ সমর্থনের নেপথ্য কাহিনী এদিন বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ১৯৯৮ সালের ১ জানুয়ারি তৃণমূল কংগ্রেস নির্বাচন কমিশনের প্রতীক পায়। তার ঠিক পরেই লোকসভা নির্বাচনে সাতটি আসনে জয়লাভ করে তাঁর দল। সেই সময় কেন্দ্রে বাজপেয়ী সরকারের ম্যাজিক ফিগার বা সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল না। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “তখন বাজপেয়ীজির সরকারের মেজরিটি ছিল না। আমরা সাতজন মিলে নিঃশর্তে সমর্থন করেছিলাম। ওনার সরকার হয়েছিল আমাদের জন্যই।”

তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা স্মরণ করে মমতা স্পষ্ট জানান, সমর্থনের বিনিময়ে তিনি বা তাঁর দল কোনও ব্যক্তিগত সুযোগ-সুবিধা বা মন্ত্রিত্বের দাবি করেননি। বরং বাংলার ঝুলে থাকা প্রকল্পগুলি সম্পন্ন করাই ছিল তাঁর প্রধান শর্ত। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়: “আমরা মন্ত্রিত্ব চাইনি, চেয়েছিলাম বাংলার জন্য বিশেষ প্যাকেজ। সেই প্যাকেজের মাধ্যমেই দ্বিতীয় হুগলি সেতুর কাজ সম্পন্ন করা থেকে শুরু করে ইসিএল (ECL) বা চিত্তরঞ্জন লোকোমোটিভের মতো সংস্থাগুলোকে বাঁচানো সম্ভব হয়েছিল।” রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে বাজপেয়ীর সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, অটল বিহারী বাজপেয়ী তাঁকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন এবং ভরসা করতেন। সেই টানেই সরকারের যে কোনও সংকটে বা সমস্যায় মমতা সবসময় তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন। উন্নয়নের স্বার্থে এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের খাতিরে তিনি যে বরাবরই আপসহীন, এই বার্তার মাধ্যমে তিনি সম্ভবত সেটাই বুঝিয়ে দিলেন।

আরও পড়ুন- লাল হলুদের প্রথম একাদশে সাউল, টিফোতে গর্বের ইতিহাস সমর্থকদের

_

_

_

_

_

_
_

