প্রেমের টান নাকি বিকৃত মানসিকতা? নিজের প্রেমিকাকে নৃশংসভাবে খুন করার পর তাঁর মৃতদেহের পাশেই বসে বিয়ার খেলেন প্রেমিক, এমনকি যৌন নির্যাতনও চালালেন। শুধু তাই নয়, অনুশোচনা নাকি অন্য কোনো তাড়নায়, মুম্বইয়ের (Mumbai) এক হোটেলে বসে প্রেমিকার ‘আত্মা’র সাথে কথা বলার জন্য শুরু করলেন তন্ত্রসাধনা। ইনদোরের (Indore)এই এমবিএ ছাত্রীর (MBA student) খুনের ঘটনায় সামনে আসা একের পর এক তথ্য শুনে খোদ পুলিশকর্তারা চমকে উঠছে।

গত ১০ ফেব্রুয়ারি সকালে আধার কার্ড সংশোধনের (Aadhar card correction) নাম করে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন ওই ছাত্রী। বাবা তাঁকে কালেক্টরেটের সামনে নামিয়ে দিয়ে যান। পরে বোনকে ফোন করে তিনি জানান, সহপাঠী পীযূষ ধামনোটিয়ার জন্মদিনের পার্টিতে যাচ্ছেন, ফিরতে রাত ১১টা বাজবে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, দুপুর নাগাদ পীযূষের ভাড়া করা ঘরের দিকে দুজনে হেঁটে যাচ্ছেন। ঠিক আড়াই ঘণ্টা পর পীযূষকে একা একটি ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। আরও পড়ুন: বাগুইহাটিতে কিশোরীকে লাগাতার ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার ৫ নাবালক

পুলিশি জেরায় উঠে এসেছে সেই আড়াই ঘণ্টার ভয়াবহ ঘটনার বর্ণনা। পীযূষ প্রথমে মেয়েটিকে শারীরিক সম্পর্কের জন্য চাপ দেয়। মেয়েটি অসুস্থতার কারণে অসম্মতি জানালে তাঁকে জোর করে ধর্ষণ করা হয়। এরপর দড়ি দিয়ে মেয়েটির হাত-পা ও চোখ বেঁধে ফেলে পীযূষ। মেয়েটি চিৎকার করতেই তাঁকে থামাতে মুখে কাপড় গুঁজে তাঁর বুকের ওপর চড়ে বসে থাকে ধামনোটিয়া, যতক্ষণ না মেয়েটির নিশ্বাস বন্ধ হয়। এমনকি মেয়েটির মৃত্যু নিশ্চিত করতে গায়ের জোরে ছুরি বসিয়ে দেওয়া হয় তাঁর বুকে, যার অভিঘাতে ছুরিটি ভেঙে দু-টুকরো হয়ে যায়।

খুন করার পর পীযূষ ঘর থেকে বেরিয়ে মদের দোকান থেকে বিয়ার কিনে আনে। মৃতদেহের পাশেই বসে সে মদ্যপান করে এবং লাশের ওপর ফের যৌন নির্যাতন চালায়। যাওয়ার আগে মেয়েটির পোশাক খুলে তাঁকে নগ্ন অবস্থায় রেখে পালিয়ে যায় সে। রাত ১১টা নাগাদ মেয়েটির ফোন থেকে বাড়িতে একটি মেসেজ আসে— ‘বাবাকে বোলো ও আর বাড়ি ফিরবে না’। এরপরই কলেজের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে এবং মেয়েটির হোয়াটস্যাপ স্ট্যাটাসে তাঁদের দুজনের ১১ টি আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে দেয় পীযূষ, যাতে মেয়েটির সামাজিক সম্মান ধুলোয় মিশে যায়। এরপর ফোনটি ভেঙে তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করে সে মুম্বই পালিয়ে যায়।

মুম্বইয়ের পানভেলের একটি হোটেলে গা ঢাকা দিয়েছিল পীযূষ। পুলিশ যখন সেখানে হানা দেয়, তখন দেখা যায় এক অদ্ভুত দৃশ্য। হোটেলের ঘরের এক নির্জন কোণে কী যেন বিড়বিড় করছে সে। কীভাবে আত্মাকে ডেকে আনতে হয় , তা ইউটিউবে সার্চ করে সে মৃত প্রেমিকার আত্মার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছিল। পুলিশের জেরা করায় সে দাবি করেছে, সে বিয়ে করতে চাইলেও তাঁর প্রেমিকা অন্য কারোর সঙ্গে ডেটিং অ্যাপে কথা বলছিল, যা সে সহ্য করতে পারেনি।

আদালত অভিযুক্ত পীযূষ ধামনোটিয়াকে তিন দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠিয়েছে। তাঁর মানসিক স্থিতি খতিয়ে দেখছেন চিকিৎসকরা।

–

–

–

–


