Tuesday, February 17, 2026

কমিশনের ‘থ্রেট কালচার’: আধিকারিকদের রক্ষা করবে রাজ্য, প্রতিশ্রুতি মুখ্যমন্ত্রীর

Date:

Share post:

স্বল্প সময়ে যেভাবে নির্বাচন কমিশন বাংলায় এসআইআর প্রক্রিয়া চালাতে সক্ষম হচ্ছে তার জন্য রাজ্যের আধিকারিকদেরই কৃতিত্ব। তা সত্ত্বেও নিজেরাই নিয়ম বানিয়ে, আবার তা লঙ্ঘন করে রাজ্যেরই আধিকারিকদের উপর ‘থ্রেট কালচার’ (threat culture) চালাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। কমিশনের খাঁড়া যে সব আধিকারিকদের উপর নেমেছে, তাঁদের পাশে রাজ্যের সরকার ১০০ শতাংশ থাকবে, মঙ্গলবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী (Chief Minister of West Bengal)। বাংলায় এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালীন রাজ্যের আধিকারিকদের সঙ্গেও কমিশনের সংঘাত যে সীমায় পৌঁছেছে, সেই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর এই বার্তা সরকারি আধিকারিকদের জন্য একটি সদর্থক বার্তা নিয়ে আসবে বলেই মত প্রশাসনিক স্তরে।

রাজ্যের সব স্তরের আধিকারিকদের উপর যেভাবে চাপ দিচ্ছে কেন্দ্রের নির্বাচন কমিশন তাকে ‘থ্রেট কালচার’ বলে দাবি করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তিনি দাবি করেন, এই থ্রেট কালচার সবার উপর চালাচ্ছে। জেলাশাসক, অতিরিক্ত জেলাশাসক, মহকুমা শাসক থেকে ওইআরও স্তরের সব আধিকারিকের বিরুদ্ধে। থ্রেট কালচার করে কী হবে? আজ আপনি একটি আইন দেখাবেন। কাল সেটাই লঙ্ঘন করবেন। এটা তো আপনার দোষ।

এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের আধিকারিকদের পাশে কীভাবে থাকতে হয়, এদিন তাও স্পষ্ট করে দেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তিনি স্পষ্ট জানান, কোনও আধিকারিক অযথা কমিশনের রোষের শিকার হলে সরকার তাঁর বিষয়টি রক্ষা করবে। একশো শতাংশ।

তিনি আরও স্পষ্ট করে দেন এই কথায়, হয়তো তুলঘকি কমিশনের (Election Commission) অধীনে এই এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় তাঁরা কাজ করবেন না। কিন্তু তাঁরা অন্যান্য কাজ করবেন। উন্নয়নের কাজ করবেন। তাঁদের সঙ্গে আছি, ছিলাম, থাকব।

আধিকারিকদের শাস্তি নিয়ে কেন রাজ্য সরকার এতটা কড়া অবস্থান নিতে চলেছে, তাও ব্যাখ্যা করে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, যদি কেউ অন্যায় করে থাকে রাজ্যকে জানাতে পারত। আমরা পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছি নির্বাচন কমিশন (Election Commission) বলেছে বলে, ভদ্রতার খাতিরে। এটাও মনে রাখবেন – তাঁদের আত্মপক্ষ সমর্থনের (defend) কোনও সুযোগ দেওয়া হয়নি। আমি নিজে দুএকজনকে চিনি যাঁরা দিন রাত খেটেছেন। তাঁদের কাছে একবার জানতে চাওয়া হল না আপনার অপরাধ কী?

আইনি প্রক্রিয়ায় যা হওয়ার তা হলেও আদতে তাঁরা রাজ্যের সরকারি কাজে যে একইভাবে থাকবেন, তা বলতে গিয়ে এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তদন্ত চলবে। সেখানে দেখা যাবে কী আছে না আছে। কিন্তু তাঁরা কাজ করবেন, নির্বাচনের কাজ ছাড়া কাজ করবেন। এবং ভালো কাজই জেলায় করবেন। তাঁরা কেউ চাকরিচ্যুত হচ্ছেন না। যাঁদের পদে নামিয়ে দেওয়া হবে আমরা তাঁদের পদোন্নতি করব। কারণ এগুলো প্রতিহিংসামূলক পদক্ষেপ।

আরও পড়ুন : ১৯৯২-এর ৬ ডিসেম্বরের ঘটনা পূর্ব পরিকল্পিত! বিস্ফোরক দাবি তৃণমূল সুপ্রিমোর

সেই সঙ্গে জানান, মুখ্যসচিব (Chief Secretary) আইন মেনেই চলবেন। সেটা সমস্যা নয়। আমরা মানুষের পাশে আছি। আধিকারিকদের পাশে আছি। এবং আমরা থাকব। একটি আইন আছে। কেউ আইন ভাঙলে আইন আইনের পথে চলবে।

spot_img

Related articles

অনন্য নজির! আন্তর্জাতিক ক্রীড়া-মঞ্চে পদক জয় মন্ত্রী বীরবাহার মা প্রাক্তন বিধায়ক চুনিবালার

৬৫ বছর ঊর্ধ্ব বিভাগে হাই জাম্পে ব্রোঞ্জ পদক জিতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নজির গড়ে ঝাড়গ্রামে ফিরলেন প্রাক্তন বিধায়ক ও...

নির্বাচনের আগে গলার কাঁটা প্রতীক উরের চিঠি! কীসের সংঘাত প্রকাশ্যে আসা ঠেকাতে মাঠে প্রবীণ বাম নেতারা

নির্বাচনের আগে জোট নিয়ে সমালোচনার মুখে সিপিআইএম। বাম শরিক থেকে পূর্বতন জোট শরিক – সকলেই সিপিআইএমের সমালোচনায়। দলের...

বাদুড়িয়া যুবক খুনে গ্রেফতার BDO-র সঙ্গীও!

বাদুড়িয়ার যুবক খুনের ঘটনায় আরও এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করল পুলিশ। অভিযোগ উঠেছে, মৃত নাসির আলিকে খুন করে দেহ...

মন্ত্রিসভার বৈঠকে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত: WBCS-র দ্রুত উন্নতির রাস্তা খুললেন মুখ্যমন্ত্রী

মন্ত্রিসভার (Cabinet) বৈঠকে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। ডব্লু বিসিএস (WBCS) আধিকারিকদের পদোন্নতি ও প্রভিশন সংক্রান্ত নিয়মে গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনের কথা ঘোষণা...