“লক্ষ্মীর ভাণ্ডারকে ভিক্ষা ভাবতাম। মাঠে নেমে দেখলাম এটা আত্মসম্মান।“ সিপিএম (CPIM) ছেড়ে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর উন্নয়নমূলক প্রকল্প নিয়ে মন্তব্য প্রতীক উর রহমানের (Pratik Ur Rahaman)। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদককে কার্যত ‘গব্বর সিং’ বলে অভিহিত করে প্রতীকের মন্তব্য, “প্রশ্ন করতে পারব বলেই কমিউনিস্ট পার্টি করেছিলাম। কিন্তু সেখানেও প্রশ্ন তোলায় আমায় ব্রাত্য করে দেওয়া হয়।“ তাহলে কি ২০২৬-এর নির্বাচনের আগে বিরাট ধাক্কা আলিমুদ্দিনে? দল ছেড়ে এবার তৃণমূলে (TMC) যোগ দেবেন প্রতীক? উত্তরে ঠোঁটের কোণে হাসি বুঝিয়ে দিল, উত্তর সদর্থক হওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা।

হঠাৎ করেই দিন কয়েক আগে দলকে দেওয়া প্রতীকের চিঠি ভাইরাল হয়। সেখানে প্রতীক উর লিখেছিলেন, দলের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারছেন না। সেই কারণেই ছেড়ে দিচ্ছেন। এর পর রাজ্য রাজনীতি থেকে সংবাদ মাধ্যমে চর্চা- কোথায় যাচ্ছেন এই লড়াকু যুব নেতা? শাসকদলে যোগ দেবেন ২৪-এর নির্বাচনে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) বিরুদ্ধে বাম প্রার্থী প্রতীক? সংবাদ মাধ্যমে মুখ খুলেই একের পর এক বোমা ফাটান প্রতীক। তাঁর অভিযোগের তির সরাসরি সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের বিরুদ্ধে। সঙ্গে তাঁর সাঙ্গপাঙ্গরা। প্রতীক সরাসরি বলেন, “মহম্মদ সেলিম আজ মাত্র কয়েকজনকে নিয়ে দল চালাচ্ছেন।“ তাঁদের মতো নেতাদের পদ-সম্মান কিচ্ছু নেই।

অভিমানী প্রতীকের সঙ্গে চিঠি দেওয়ার পর থেকে যোগাযোগ করেননি সেলিম। ক্ষোভ উগরে প্রতীক (Pratim Ur Rahaman) বলেন, “মহম্মদ সেলিম হুমায়ুন কবীরের মতো নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করার সময় পান, অথচ নিজের দলের নেতাদের ফোন করার বা কথা বলার সময় তাঁর হয় না।“ তাঁর অভিযোগ, সেলিম সাহেব গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে দল চালানোর বদলে নিজের একটি ছোট বলয় তৈরি করেছেন।
আরও খবর: গোর্খাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে ‘জুমলা’ বিজেপি! তৃণমূলে যোগ দিয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন বিষ্ণুপ্রসাদ

‘বাংলা বাঁচাও’ যাত্রায় কেন নেই সৃজন ভট্টাচার্যের মতো নেতার নাম? প্রশ্ন তোলায় দলে তিনি ব্রাত্য হয়েছে বলে অভিযোগ প্রতীকের। তাঁর কথায়, “দলের ভিতরে প্রশ্ন তুলেছি বলেই আমাকে ব্রাত্য করে দেওয়া হয়েছে। রাজ্য সম্মেলন হচ্ছে, অথচ আমাকে ডেলিগেট পর্যন্ত করা হয়নি।” বর্তমান রাজ্য সম্পাদকের সঙ্গে প্রাক্তনের তুলনা টেনে প্রতীক তুলে তিনি বলেন, “সূর্যকান্ত মিশ্রের সমালোচনা করলেও তিনি তা গ্রহণ করতেন। এটাই রাজ্য সম্পাদকের কাজ হওয়া উচিত। কিন্তু এখন কেউ কেউ দলের ঊর্ধ্বে উঠতে চাইছেন।”

তাঁর বিরুদ্ধে শাসকদলের সঙ্গে সেটিং-এর অভিযোগও করা হয়ে বলেও দাবি প্রতীক। বলেন, “আমার বিরুদ্ধে বলা হয়েছে আমি সেটিং করে রাজনীতি করি। শাসকদলের বিধায়ক-সাংসদদের সাথে যোগাযোগ করলেই কি সেটিং হয়?”

এর পরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) জনকল্যাণমুখী প্রকল্পের মুক্ত কণ্ঠে প্রশংসা করেন প্রতীক উর রহমান (Pratik Ur Rahaman)। বলেন, “লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মাধ্যমে গরিব মানুষ আত্মসম্মান ফিরে পেয়েছে। প্রথমে আমরা এটাকে ‘ভিক্ষা’ বলেছিলাম, সেটা ভুল ছিল। মাঠে নেমে দেখছি এটা মানুষের হাতে অর্থের যোগান দিচ্ছে। বামপন্থীরাই স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী ভালো কাজ করেছেন।”

–

–

–

–


