রাজ্য সরকারের নতুন প্রকল্প ‘যুব সাথী’র সুবিধা পেতে আবেদন জানালেন খোদ বিজেপি নেত্রী। শুধু আবেদন জানানোই নয়, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই জনমুখী প্রকল্পের মুক্তকণ্ঠে প্রশংসা করে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন তিনি। হুগলির আরামবাগের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। অস্বস্তিতে পড়েছে জেলা বিজেপি নেতৃত্ব।

সম্প্রতি রাজ্যের অন্তর্বর্তী বাজেটে ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সি বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য মাসিক ১৫০০ টাকা ভাতার ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। সেই প্রকল্পেরই ফর্ম জমা দিতে গোঘাট ২ নম্বর ব্লক অফিসে দেখা গেল আরামবাগ সাংগঠনিক জেলা বিজেপি মহিলা মোর্চার কনভেনার সুদেষ্ণা অধিকারী মহান্তকে। ৩৭ বছর বয়সি সুদেষ্ণা নিজে একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত হলেও তাঁর স্বামী বর্তমানে কর্মহীন। ফলে অভাবের সংসারে সরকারি এই সাহায্য বড় পাওনা বলে মনে করছেন তিনি। যদিও সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি দাবি করেন, ছেলের জন্য এই আবেদন করছেন; কিন্তু সরকারি নথিতে আবেদনকারী হিসেবে তাঁর নিজের নামই স্পষ্ট দেখা গিয়েছে।

এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিজেপির মতো বিরোধী দলের এক দায়িত্বপ্রাপ্ত নেত্রী কীভাবে তৃণমূল সরকারের প্রকল্পের সুবিধা নিচ্ছেন, সেই প্রশ্ন উঠেছে। জবাবে সুদেষ্ণা দেবীর সাফ কথা, “এটা রাজ্য সরকারি প্রকল্প। এখানে রাজনৈতিক বিতর্কের কোনো জায়গা নেই। এ রাজ্যে বসবাসকারী হিসেবে সকলেরই এই সুবিধা পাওয়ার অধিকার আছে।” এমনকি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প না নিলেও, বেকার ভাতার এই উদ্যোগের জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে সাধুবাদ জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, রাজ্যের সমস্ত বেকার যুবক-যুবতীরই এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করা উচিত।

তৃণমূলের আরামবাগ টাউন নেতৃত্ব এই ঘটনাকে মমতার উন্নয়নের জয় হিসেবেই দেখছে। তাঁদের দাবি, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা যে দলমত নির্বিশেষে পৌঁছচ্ছে, এই ঘটনাই তার সবথেকে বড় প্রমাণ। অন্যদিকে, গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা নেত্রীর মুখে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসা শুনে কার্যত কুলুপ এঁটেছে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। ভোটের মুখে দলেরই এক পদাধিকারীর এমন অবস্থান জেলা বিজেপির অন্দরে বড়সড় অস্বস্তি তৈরি করল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

আরও পড়ুন- ব্যাটিং ফর্ম নিয়ে উদ্বেগে নেই অভিষেক, জানুন প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে ভারতের সম্ভাব্য একাদশ

_

_

_

_

_
_

