Friday, April 24, 2026

কৃষি ঋণে রেকর্ড গড়ার পথে বাংলা: লক্ষ্য এবার এক লক্ষ কোটি

Date:

Share post:

রাজ্যের মুকুটে নয়া পালক। চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষের শেষে পশ্চিমবঙ্গের কৃষিখাতে ব্যাঙ্ক ঋণের পরিমাণ প্রথমবার এক লক্ষ কোটি টাকার গণ্ডি স্পর্শ করতে চলেছে। নাবার্ডের রাজ্য ঋণ সংক্রান্ত একটি সেমিনারে এই আশাপ্রদ তথ্য পেশ করেছেন রাজ্যের কৃষি দফতরের প্রধান সচিব ওঙ্কার সিং মীনা। তাঁর দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত জানুয়ারি মাসেই এই ঋণের পরিমাণ ৯১ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে। হাতে থাকা বাকি সময়ে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হওয়া কেবল সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

গত অর্থবর্ষে বাংলায় কৃষি ঋণের পরিমাণ ছিল ৯৭ হাজার কোটি টাকা। এবার সেই রেকর্ড ভেঙে নয়া নজির গড়তে চলেছে রাজ্য। সেমিনারে উপস্থিত ব্যাঙ্ক আধিকারিকদের উদ্দেশে প্রধান সচিব বিশেষ করে তৃণমূল স্তরে ঋণ বিতরণের ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানান। বিশেষ করে সুগন্ধি ধান, ফল এবং নিম্ন গ্লাইসেমিক সূচকযুক্ত ধানের মতো মূল্য সংযোজিত ফসলের চাষে পর্যাপ্ত পুঁজি বা ঋণপ্রবাহ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।

রাজ্য প্রশাসনের লক্ষ্য যে আরও সুদূরপ্রসারী, তা স্পষ্ট হয়েছে আগামী অর্থবর্ষের পরিকল্পনায়। ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষে কৃষিখাতে ১ লক্ষ ৩৭ হাজার কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে। শুধু কৃষি নয়, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (MSME), আবাসন, শিক্ষা এবং জলবায়ু সহনশীল নির্মাণ প্রকল্পের মতো অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ক্ষেত্রগুলিতেও ঋণপ্রবাহের মোট লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লক্ষ ৯৯ হাজার কোটি টাকা।

নাবার্ডের মুখ্য মহাব্যবস্থাপক পি কে ভরদ্বাজ রাজ্যের এই স্থিতিশীল উন্নয়নের প্রশংসা করে জানান, বাংলার কৃষিখাতে বার্ষিক বৃদ্ধির হার ৪ থেকে ৫ শতাংশ। সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল ঋণ পরিশোধের হার, যা বর্তমানে ৯০ শতাংশের বেশি। অন্যদিকে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ক্ষেত্রেও ডিসেম্বর পর্যন্ত ১ লক্ষ ৯৯ হাজার কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে, যা নির্ধারিত ২ লক্ষ ১২ হাজার কোটির লক্ষ্যমাত্রা ছোঁয়ার পথে।

রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের ভৌগোলিক বৈচিত্র্যকে কাজে লাগিয়ে আয়ের পথ প্রশস্ত করার কথা বলেন অর্থ দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব প্রভাত কুমার মিশ্র। তিনি জানান, পাহাড়ে ফুল ও ফলচাষ, সাব-তরাই অঞ্চলে মশলা চাষ এবং গাঙ্গেয় পলিমাটি অঞ্চলে উন্নত ফসলের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। এমনকি সুন্দরবনকে জৈব চাষের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।

প্রশাসনিক মহলের মতে, গ্রামীণ অর্থনীতিতে এই বিপুল পরিমাণ অর্থের জোগান চাষিদের স্বনির্ভর করার পাশাপাশি সামগ্রিক উৎপাদন বৃদ্ধিতেও সহায়ক হবে। এখন দেখার, অর্থবর্ষের শেষে বাংলা সত্যিই এক লক্ষ কোটির ম্যাজিক ফিগার ছুঁয়ে ইতিহাস গড়তে পারে কি না।

আরও পড়ুন- জীবনের বাইশ গজে নতুন ইনিংস ধাওয়ানের, বিয়ের ছবি ফাঁস সতীর্থের

_

 

_

 

_

 

_

Related articles

নন্দীগ্রামে EVM নিয়ে যাওয়া গাড়ি আটকানোর ছক বিজেপির, রুখল পুলিশ-কেন্দ্রীয় বাহিনী

ভোট মিটতেই ইভিএম লুটের আশঙ্কায় নন্দীগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা! বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর বুথ থেকে ইভিএম নিয়ে...

দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে আজ জেলাশাসকদের সঙ্গে বৈঠকে সিইও

নির্বিঘ্নে বাংলায় প্রথম দফার নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। প্রায় ৯২ শতাংশের বেশি ভোট দানের হার রীতিমতো রেকর্ড গড়েছে। দ্বিতীয়...

সিরিয়াল ছেড়ে নজরে ভোটের খবর, নির্বাচনী আবহে টলিপাড়ার টিআরপিতে মন্দা !

বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের লড়াই জমে উঠেছে (Election Time)। প্রথম দফায় রেকর্ড ভোট দান এখন খবরের শিরোনামে। তবে শুধু...

দ্বিতীয় দফার প্রচারে আজ কলকাতা-সহ শহরতলিতে নির্বাচনী কর্মসূচি মমতা-অভিষেকের

বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় রেকর্ড ভোটদান শেষে, এবার নজর দ্বিতীয় দফায় (second phase of West Bengal assembly...