Monday, February 23, 2026

মৎস্যশিকারে নয়া দিগন্ত, গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে ‘অ্যাক্সেস পাস’ আনল কেন্দ্র

Date:

Share post:

ভারতের নীল অর্থনীতি বা ‘ব্লু ইকোনমি’র প্রসারে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় সরকার। সমুদ্রের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন (ইইজেড) এলাকায় মাছ ধরার জন্য জাতীয় পর্যায়ে ‘অ্যাক্সেস পাস’ ব্যবস্থার আনুষ্ঠানিক সূচনা হল। গত বৃহস্পতিবার গুজরাটের ভেরাভালের কেসিসি গ্রাউন্ডে আয়োজিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় মৎস্য ও পশুপালন মন্ত্রী রাজীব রঞ্জন সিং এই পরিষেবার উদ্বোধন করেন। এর ফলে গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণের ক্ষেত্রে ভারতীয় মৎস্যজীবীদের সামনে এক নতুন দিগন্ত খুলে গেল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

ভারতের প্রায় ১১ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ উপকূলরেখা এবং ২৪ লক্ষ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত ইইজেড অঞ্চল মৎস্য সম্পদে অত্যন্ত সমৃদ্ধ। বিশেষ করে টুনা জাতীয় মাছের বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও এতদিন পরিকাঠামো ও আইনি জটিলতার কারণে ভারতীয় মৎস্যজীবীরা উপকূল থেকে মাত্র ৪০-৫০ নটিক্যাল মাইলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতেন। এবার ১২ থেকে ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত গভীর সমুদ্রে প্রবেশের আইনি ছাড়পত্র মিলল এই পাসের মাধ্যমে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেটে ঘোষিত এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে ইইজেড বিধিমালা ২০২৫ কার্যকর করা হয়েছে।

এদিনের অনুষ্ঠানে দেশের ১৩টি উপকূলীয় রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ২৪টি মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির প্রতিনিধিদের হাতে অ্যাক্সেস পাস তুলে দেওয়া হয়। সুবিধাভোগীদের তালিকায় নাম রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের সুবোধ কান্ডার এবং রাধাকৃষ্ণ মান্নার। মন্ত্রী জানান, এই উদ্যোগ মাছ ধরার প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, নিরাপদ এবং নিয়ন্ত্রিত করবে। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক মৎস্যজীবীদের স্বার্থ রক্ষায় বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে এই নীতিতে। প্রথাগত এবং ছোট মোটরচালিত নৌকাগুলিকে এই পাসের আওতা থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। শুধুমাত্র যান্ত্রিক ও ২৪ মিটারের বেশি দৈর্ঘ্যের বড় জাহাজের ক্ষেত্রে এই পাস বাধ্যতামূলক।

ডিজিটাল ইন্ডিয়ার ভাবনার সঙ্গে সাযুজ্য রেখে পুরো প্রক্রিয়াটি ‘রিয়েলক্রাফ্ট’ (ReALCRaft) পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে পরিচালিত হবে। মৎস্যজীবীরা সম্পূর্ণ নিখরচায় এই পাসের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এই পোর্টালটি মেরিন প্রোডাক্টস এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (এমপিইডিএ) এবং এক্সপোর্ট ইন্সপেকশন কাউন্সিলের সঙ্গে যুক্ত থাকায় মাছ ধরা থেকে শুরু করে রপ্তানি পর্যন্ত সমস্ত তথ্য এক জানলা ব্যবস্থার মাধ্যমে পাওয়া যাবে। এতে ভারতীয় সামুদ্রিক পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে গ্রহণযোগ্যতা ও গুণমান নিশ্চিত করা সহজ হবে।

মৎস্যজীবীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে কেন্দ্র ইতিমধ্যেই এক লক্ষ ট্রান্সপন্ডার বসানোর কাজ শুরু করেছে। যার মধ্যে ৫০ হাজারেরও বেশি যন্ত্র ইতিমধ্যেই লাগানো হয়েছে। এর ফলে দুর্যোগের সময় বা মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে থাকলেও উপকূলরক্ষী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখা সম্ভব হবে। এছাড়া মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময় আর্থিক সহায়তা এবং দুর্ঘটনা বিমার পরিমাণ বাড়িয়ে ৫ লক্ষ টাকা করা হয়েছে। গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার আধুনিক কৌশল শেখাতে সিআইএফএনইটি এবং এফএসআই-এর মাধ্যমে বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করছে কেন্দ্রীয় মৎস্য দফতর।

আরও পড়ুন- বিজেপির বিক্ষোভ থেকে মহিলাদের অশালীন ভঙ্গি! অসমে নারী ‘সম্মানের’ কুশ্রী ছবি

_

 

_

 

_

 

_

 

_

spot_img

Related articles

পোর্টাল বন্ধ, কীভাবে নথি আপলোড: কমিশনকে প্রশ্ন বিচারকদের

সোমবার থেকেই লজিকাল ডিসক্রিপেন্সিতে আটকে থাকা ভোটাদের নথি যাচাইয়ের কাজ শুরু করবেন রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারক ও বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা।...

পিজির মুকুটে নয়া পালক! স্বাস্থ্যসাথীর হাত ধরে রাজ্যে প্রথম ‘সিউচারলেস হার্ট ভালভ’ প্রতিস্থাপন

রাজ্যের মুকুটে নতুন পালক। খাস কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে সফলভাবে সম্পন্ন হলো রাজ্যের প্রথম সরকারি ‘সিউচারলেস হার্ট ভালভ’ বা...

চূড়ান্ত ব্যর্থ ব্যাটিং, সুপার আটের প্রথম ম্যাচে হেরে চাপে ভারত

  টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের (T20 World cup) সুপার এইটের প্রথম ম্যাচেই ধাক্কা ভারতের দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ৭৬ রানে হার টিম...

নিজে হাতে খুন করেও অনুশোচনা নেই ব্রিজভূষণের! ধর্ষক-খুনিদের আশ্রয়দাতা মোদিকে প্রশ্ন তৃণমূলের

একসময় দেশের মুখ উজ্জ্বল করা মহিলা ক্রীড়াবিদরা ধর্ষক বলে আঙুল তুলেছিলেন তার দিকে। তারপরেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁকে...