একসময় দেশের মুখ উজ্জ্বল করা মহিলা ক্রীড়াবিদরা ধর্ষক বলে আঙুল তুলেছিলেন তার দিকে। তারপরেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁকে নিয়েই সাংসদের আসনে বসেছিলেন। চাপের মুখে তাঁকে সরালেও তাঁর ছেলেকেও সাংসদের আসন দিয়ে বিজেপিতে পরিবারতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করেছেন। সেই প্রাক্তন সাংসদ ব্রিজভূষণ শরণ সিং এবার সাক্ষাৎকারে স্বীকার করলেন নিজে হাতে খুন করার কথা। সেই সঙ্গে দাবি করলেন তাতে তাঁর কোনও অনুশোচনা নেই। সেখানেই বাংলার শাসকদলের হুঁশিয়ারি, নরেন্দ্র মোদি যেভাবে ধর্ষক খুনিদের আশ্রয় দিচ্ছেন, তা গোটা দেশ দেখছে।

এটি অডিও ভিস্যুয়াল চ্যানেলের সাক্ষাৎকারে প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ ব্রিজভূষণ দাবি করেন তিনি নিজে হাতে একটি খুন করেছিলেন। সেই ঘটনার বর্ণনায় তিনি দাবি করেন, সেই সময় দুপক্ষের মধ্যে গুলি চলছিল। আমিও গুলি চালাই।

অনুষ্ঠানের সঞ্চালিকা তাঁকে প্রশ্ন করেন, এই ঘটনায় তাঁর এখন অনুশোচনা হয় কি না। তাতে ব্রিজভূষণের সাফ জবাব, কোনও অনুশোচনা নেই। বিস্মিত সঞ্চালিকা বারবার প্রশ্ন করেন, তাঁর সত্যিই অনুশোচনা নেই কি না। তাতেও তাঁর উত্তরের পরিবর্তন হয় না। এমনকি তিনি নিজের কথার সাপেক্ষে যুক্তি দেন, তিনি আত্মরক্ষায় মানুষ খুন করেছিলেন।

প্রাক্তন বিজেপি সাংসদের এই প্রকাশ্য স্বীকারোক্তির পরে বাংলার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, কোনও ভয় নেই, কোনও অনুশোচনা নেই। এভাবেই অভ্যর্থনা নরেন্দ্র মোদির নিউ ইন্ডিয়া-এ। একজন মানুষ খুনের মতো অপরাধ করার পরও দায় ঝেড়ে ফেলতে পারে, যেন জবাবদিহি নিতান্ত অপ্রয়োজনীয়। এটাই সেই ব্রিজভূষণ যাঁর বিরুদ্ধে জাতীয় মহিলা কুস্তিগিররা ধর্ষণের অভিযোগ তুলেছিলেন। তাঁরই ছেলে করণ ভূষণ সিং-কে লোকসভায় পাঠানো হয়েছে যাতে ক্ষমতার এই চক্র অব্যাহত থাকে ও তা পরিবারের মধ্যেই থাকে।

আরও পড়ুন- আন্ডারপাস নেই কেন? দুর্গাপুরে জনসংযোগে গিয়ে আমজনতার ক্ষোভের মুখে বিজেপি বিধায়ক

_

_

_

_

_
_


