ফাল্গুনের শুরুতেই ডুয়ার্সের জঙ্গলে বাড়ছে দাবানলের শঙ্কা। বসন্তের হাওয়ায় শুকনো পাতার স্তূপে একটি ছোট আগুনের ফুলকিও যে কোনও মুহূর্তে ভয়াবহ আকার নিতে পারে। এই আশঙ্কা থেকেই এবার আগেভাগে কোমর বেঁধে নামল বনদপ্তর। গোরুমারা ন্যাশনাল পার্ক সংলগ্ন ৭১৭ নম্বর জাতীয় সড়কের ৯ কিলোমিটার অংশকে ‘নো স্মোকিং জোন’ বা ধূমপান নিষিদ্ধ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। বনাধিকারিকদের স্পষ্ট বার্তা, নিয়ম ভাঙলে শুধু জরিমানা নয়, প্রয়োজনে শ্রীঘরেও যেতে হতে পারে অভিযুক্তদের।

বনদপ্তর সূত্রে খবর, ফাল্গুন ও চৈত্র মাস হলো ঝরাপাতার মরশুম। শাল ও সেগুনের শুকনো পাতায় ঢেকে থাকে ডুয়ার্সের বনাঞ্চল। এই শুকনো পাতাই দাবানলের প্রধান জ্বালানি। প্রতি বছরই অসাবধানতাবশত বা ইচ্ছাকৃতভাবে লাগানো আগুনে ভস্মীভূত হয় মাইলের পর মাইল বনাঞ্চল। অভিযোগ, চলন্ত গাড়ি থেকে পর্যটক বা চালকদের ফেলে দেওয়া জ্বলন্ত সিগারেট ও বিড়ির টুকরো থেকেই মূলত অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। এছাড়াও জঙ্গল সংলগ্ন কিছু বাসিন্দা গবাদি পশুর নতুন ঘাসের আশায় শুকনো পাতায় আগুন লাগিয়ে দেন বলে অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

অতীতের সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার ডুয়ার্সের প্রতিটি জঙ্গলে বিশেষ ‘ফায়ার ওয়াচার’ দল গঠন করা হয়েছে। ঝরাপাতার এই মরশুমে বনের গভীরে কড়া নজরদারি চালাবেন তাঁরা। এই বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, পোর্টেবল ওয়াটার পাম্প ও ব্লোয়ার। গরুমারা বন্যপ্রাণী বিভাগের সহকারী বনাধিকারিক রাজীব দে জানিয়েছেন, জঙ্গলের যে কোনও প্রান্তে আগুন লাগার খবর পাওয়া মাত্র দমকল পৌঁছানোর আগেই এই ফায়ার ওয়াচাররা প্রাথমিক মোকাবিলা করবেন, যাতে আগুন ছড়িয়ে পড়তে না পারে।

অন্যদিকে, ময়নাগুড়ি থেকে চালসাগামী ৭১৭ নম্বর জাতীয় সড়কের ৯ কিলোমিটার এলাকা যা গরুমারা ও জলপাইগুড়ি বনবিভাগের অন্তর্ভুক্ত, সেখানে বিশেষ নজরদারি শুরু হয়েছে। পর্যটক ও চালকদের সতর্ক করতে এলাকায় লাগানো হচ্ছে সচেতনতামূলক বোর্ড। গরুমারার দক্ষিণ রেঞ্জের রেঞ্জ অফিসার ধ্রুবজ্যোতি বিশ্বাস জানান, ওই নির্দিষ্ট এলাকায় কেউ ধূমপান করলে বা জ্বলন্ত বিড়ি-সিগারেট ফেললে বন আইন অনুযায়ী কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বন্যপ্রাণ ও বনজ সম্পদ রক্ষায় কোনওরকম আপস করতে নারাজ প্রশাসন।

আরও পড়ুন – বাড়ি বাড়ি পৌঁছবে পরিশ্রুত পানীয় জল, সেক্টর-৬ শিল্পনগরীর ৪ গ্রামে শুরু বড় প্রকল্প

_

_
_

_
_

_

