আড়াই দশক আগের সেই অভিশপ্ত রাত আজও তাড়া করে বেড়ায় তাঁকে। ২০০০ সালে কলকাতা হাইকোর্ট তাঁর প্রাপ্য অনুদানের নির্দেশ দিলেও, দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে সেই টাকা আদালতের ঘরেই পড়ে রয়েছে। অবশেষে নিজের হকের পাওনা ফিরে পেতে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের দ্বারস্থ হলেন একদা কালীঘাটের বাসিন্দা, বর্তমানে হুগলির এক গৃহবধূ। সূত্রের খবর, আগামী সোমবার এই মামলার শুনানি হতে পারে।

ঘটনার সূত্রপাত প্রায় পঁচিশ বছর আগে। অভিযোগ, কালীঘাট এলাকার ওই যৌনকর্মীর ওপর চড়াও হয়েছিলেন এক পুলিশকর্মী। জোর করে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করা হলে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন ওই মহিলার দেহরক্ষী। ফলস্বরূপ, পুলিশি রোষের মুখে পড়তে হয় তাঁকে। থানায় তুলে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক মারধরের জেরে ওই দেহরক্ষীর মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ ওঠে। সেই সময় এই ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন ফেলেছিল। খোদ তৎকালীন বিরোধী নেত্রী তথা বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজপথে নেমে এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন।

পরবর্তীকালে মামলা গড়ালে আদালত আলিপুর জেলা বিচারককে তদন্তের দায়িত্ব দেয়। ২০০০ সালের ২৫ অগাস্ট তৎকালীন বিচারপতি অশোক কুমার মাথুর ও বিচারপতি বারীন ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চ এক নজিরবিহীন নির্দেশ দেয়। আদালত জানায়, অভিযুক্ত পুলিশকর্মীদের বেতন থেকে টাকা কেটে আদালতের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে জমা রাখতে হবে। সেই সঞ্চিত অর্থই মৃত দেহরক্ষীর পরিবার এবং নিগৃহীতা ওই মহিলাকে অনুদান হিসেবে দেওয়ার কথা ছিল।নির্দেশ থাকলেও দীর্ঘ সময় ওই মহিলার হদিশ মেলেনি। ফলে বরাদ্দের টাকা জমা থেকে যায় আদালতের তহবিলেই। সম্প্রতি জানা গিয়েছে, পেশা বদলে ওই মহিলা বর্তমানে হুগলি জেলায় সংসার পেতেছেন। দীর্ঘ প্রবাস যাপনের পর নিজের পুরনো যন্ত্রণার ক্ষতে কিছুটা প্রলেপ দিতেই এবার বকেয়া অর্থ আদায়ে আদালতের কড়া নাড়লেন তিনি।

আরও পড়ুন – ২০২৬-এ অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট চাই, আর্জি জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে আইনজীবী

_

_

_

_

_

_

_


