ভোটার তালিকায় ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ বা বিচারাধীন নামগুলি ঘিরে দানা বাধা বিতর্কে এবার সরাসরি সংঘাতের আবহে মুখ খুলল ডব্লিউবিসিএস (একজিকিউটিভ) আধিকারিকদের সংগঠন। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতরের পক্ষ থেকে সমাজমাধ্যমে করা একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে এই টানাপড়েনের সূত্রপাত। সংগঠনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ইআরও ও এইআরও-দের ওপর দায় চাপানোর যে চেষ্টা চলছে, তা সম্পূর্ণ অসত্য এবং ভিত্তিহীন।

গত ২ মার্চ কমিশনের পক্ষ থেকে সমাজমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল, ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও) এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের গাফিলতির কারণেই বহু নাম চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা যায়নি। এই অভিযোগকে চরম অবমাননাকর বলে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়েছে আধিকারিকদের সংগঠন ডব্লিউবিসিএসইওএ। তাঁদের পাল্টা দাবি, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দিনরাত এক করে আধিকারিকরা নিষ্ঠার সঙ্গে শুনানি গ্রহণ এবং নথি আপলোডের কাজ করে চলেছেন।

সংগঠনের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে, আসল সমস্যা তৈরি হয়েছে কমিশনের নিযুক্ত মাইক্রো অবজার্ভার ও রোল অবজার্ভারদের ভূমিকা নিয়ে। অভিযোগ, ইআরও-দের নিষ্পত্তি করে দেওয়া বহু মামলা কোনও নির্দিষ্ট কারণ বা পর্যবেক্ষণ ছাড়াই বারংবার ফেরত পাঠানো হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার জেরেই বহু নাম ‘বিচারাধীন’ স্তরে আটকে রয়েছে। বিনা কারণে আধিকারিকদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর ফলে মাঠপর্যায়ে কর্মরত অফিসারদের মনোবলে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধন ও নির্বাচনী প্রস্তুতি ঘিরে যখন রাজনৈতিক পারদ চড়ছে, তখন প্রশাসনিক স্তরে আধিকারিকদের এই প্রকাশ্য অসন্তোষ নির্বাচন কমিশনের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াল। স্বচ্ছতার প্রশ্নে এখন কার ঘাড়ের দায় কার ওপর গিয়ে পড়ে, সেটাই দেখার।

আরও পড়ুন – ঐতিহ্যের খড়দহ: দোল পূর্ণিমার প্রাক্কালে নগর কীর্তনে মাতলেন এলাকাবাসী

_

_

_

_

_

_


