বাংলার মানুষের ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে চলা ধর্নামঞ্চ থেকে বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন সুদীপ রাহা (Sudip Raha)। সোমবার বক্তব্য রাখতে গিয়ে নির্বাচন কমিশন (Election Commission) থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব—একাধিক ইস্যুতে সরব হন তিনি। সুদীপ অভিযোগ করেন, বাংলায় বাইরে থেকে লোক এনে রাজ্যের বদনাম করা হচ্ছে। তাঁর কথায়, “বাংলায় এখন পরিযায়ী পাখির মতো অনেকেই এসে বসেছে, বাংলার নামে বদনাম করছে। কিন্তু এরা বেশিদিন থাকবে না, মে মাসের মধ্যেই ভ্যানিশ হয়ে যাবে।” নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাতেও কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, জ্ঞানেশ কুমার-এর নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশন এখন রাজনৈতিক দলের মতো আচরণ করছে, যা দেশের জন্য লজ্জার। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, “তারিখ দিয়ে লিখে রাখুন—একদিন নরেন্দ্র মোদি থাকবে না, অমিত শাহ থাকবে না, বিজেপিও থাকবে না।” তাঁর অভিযোগ, সাধারণ মানুষ হাজার কোটি টাকা খরচ করে গ্যাস কিনছে, আর দিল্লি থেকে নেতারা এসে বিলাসবহুল হোটেলে থাকছেন—এই ‘জমিদারি’ আর চলবে না।

এদিন নারী নিরাপত্তা এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বাঙালিদের উপর হামলার প্রসঙ্গও তোলেন সুদীপ রাহা। তিনি দাবি করেন, মধ্যপ্রদেশে এক বৃদ্ধার উপর নির্যাতনের ঘটনা কিংবা ভিন রাজ্যে কাজ করতে গিয়ে বাঙালি শ্রমিক সুখেন মাহাতোর হত্যার ঘটনায় কেন্দ্র বা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে কার্যত নীরব থাকতে দেখা যাচ্ছে। সে বিষয়েও সরব হয়েছেন তিনি। আরও পড়ুন: ভাইয়ে ভাইয়ে লড়াই লাগাচ্ছে বিজেপি: ধর্নামঞ্চে বিস্ফোরক প্রাক্তন IPS প্রসূন

ভোটে হিংসার অভিযোগ নিয়েও বিজেপিকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, অন্য রাজ্যে নির্বাচনের সময় যে হিংসার ঘটনা ঘটে, সে বিষয়ে বিজেপি বা নির্বাচন কমিশনকে কখনও সরব হতে দেখা যায় না। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, তৃণমূল কর্মীদের টাকা দিয়ে কেনা যায় না। তাঁরা পরিশ্রম ও সংগ্রামের মাধ্যমে রাজনৈতিক ময়দানে লড়াই করে। তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে ভোটের আগে মানুষের ভোটাধিকার সুরক্ষিত করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর দাবি, যত বাধাই আসুক, আগামী নির্বাচনে বাংলার মানুষ বিজেপিকে জবাব দেবে এবং তৃণমূলের জয় আটকানো যাবে না।

–

–

–

–

–

–

–

