পরিকল্পনা ছাড়া, আলোচনা ছাড়া আচমকা গ্যাসের (LPG) দাম বৃদ্ধি করেছে কেন্দ্র (Centre)। একই সঙ্গে গ্যাস বুকিং-এর সময়সীমাও বাড়ানো হয়েছে। এই সঙ্কটের মোকাবিলায় রাজ্যের তরফে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায় তার জন্য বৃহস্পতিবার জরুরি বৈঠকে বসছেন মুখ্যমন্ত্রী (Chief Minister) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সংবাদ মাধ্যমে জানালেন প্রশাসিক প্রধান। গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে আগামী সোমবার শহরে মিছিল করবেন তৃণমূল (TMC) সুপ্রিমো।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, “বৃহস্পতিবার মিটিং ডাকা হয়েছে কিন্তু গ্যাস সাপ্লাই আমার হাতেই নেই। যারা সুবিধাবাদী তারা সুবিধা নিচ্ছে। ফলের সাধারণ মানুষের আরো সমস্যা হচ্ছে। পেট্রোলিয়ামের ক্রাইসিস হচ্ছে জেনেও সেটার জন্য প্রপার প্ল্যানিং না করে কীকরে বলা হয় যে গ্যাস বুক করার ২৫ দিনে গ্যাস পাওয়া যাবে!“

এর পরেই কেন্দ্রের মোদি সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগে মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee) বলেন, “কত এলপিজি মজুদ আছে তা কেন্দ্রের জানা উচিত ছিল। কেন্দ্রের ভুল সিদ্ধান্তের ফলে এই সমস্যা তৈরি হয়েছে।“ রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের কথায়, “আমি তো ভর্তুকি দিতে চাই। তাতে লাভ হবে না। কারণ গ্যাসের জোগানই নেই! গ্রামবাংলা থেকে শহর— সকলের এতে সমস্যা হচ্ছে। আমি এটা নিয়ে কথা বলেছি। বৃহস্পতিবারই বৈঠক ডেকেছি। একটা কিছু বিকল্প ভাবা দরকার। দেখছি কী করা যায়।“

২টি গ্যাস বুকিংয়ের মধ্যে অন্তত ২৫ দিনের ব্যবধান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই ঘোষণাতেই আরও বেশি আতঙ্ক ছড়িয়ে হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর। বলেন, “কেন ওরা বলে দিল, ২৫ দিন না হলে মানুষ গ্যাস পাবে না? পেট্রলিয়াম মন্ত্রকের কাছে আমাদের দাবি, এসআইআর-এর নাম কাটার দিকে না তাকিয়ে, মানুষের অধিকার না কেড়ে গ্যাসের সমস্যা মেটান। জরুরি পরিষেবার দিকে নজর দিন। গ্যাসের জোগান যেন বন্ধ না হয়। অটো, আইসিডিএস, মিড ডে মিল, বাড়ির রান্নার গ্যাস, ছোটখাটো রেস্তরাঁর সমস্যা মেটাতে হবে। ওদের আগে মানুষের কথা ভাবা দরকার। এটা কেন্দ্রের হাতে। আমরা চাই, দ্রুত কেন্দ্রীয় সরকার পদক্ষেপ করুক।“

গ্যাসের দাম বৃদ্ধির জেরে অনেক রুটে অটো ভাড়া বাড়ান হয়েছে। বন্ধের মুখে অনেক রেস্তরাঁ। মমতা বলেন, “যাঁরা দাম বাড়িয়েছেন, তাঁদের যুক্তি সঙ্গত। কিন্তু মানুষের কথা ভাবা দরকার। মানুষের স্বার্থে বিকল্প কিছু ভাবতে হবে। আমি বৈঠক করব। আমাদের টাকা নেই, তা-ও আমি সাহায্য করতে পারি। কিন্তু টাকা দিলেও গ্যাস পাওয়া যাবে না। ২৫ দিনের ওই ঘোষণা করাই সবচেয়ে বড় ভুল হয়েছে। এটা কেন বলল? এতেই আমার আপত্তি। আমি বিকল্প ভেবে তার পর তো ঘোষণা করব!“

ডিএম এসপিদের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। হাসপাতাল, মিড ডে মিল, আইসিডিএস-এ যাতে খুব তাড়াতাড়ি গ্যাস মেলে তার জন্য ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা হয়েছে বলে জানান তিনি। মমতা বলেন, ভালোভাবে বুঝিয়ে কালো বাজারি বন্ধ করতে হবে। আগামী ছয়মাস থেকে পরিকল্পনা করব। কেন্দ্রীয় সরকার কোনও পরিকল্পনা করে না। সাপ্লাই চেইন খুলতে হবে কেন্দ্রকে। গ্যাসের জোগান ছাড়া অটো চলবে কী করে? হোটেল চলবে কি করে? সংসদে কেন্দ্রীয় সরকারকে বিকল্প উপায় জানাতে হবে বলে দাবি জানান মমতা।

–

–

–

–

