সরকারে এসেই বিজেপির জুমলা রাজনীতি শুরু বাংলায়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই ঘোষণা করেছিলেন, শুধু মুখে ঘোষণা করেই কোনও প্রকল্প চালু করা হবে না। প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, আর্থিক সামর্থ্য এবং নানা খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখেই সিদ্ধান্ত নেবে নতুন সরকার। কিন্তু বাস্তবে সেই অবস্থানের সঙ্গে সরকারের পদক্ষেপের ফারাক নিয়েই শুরু হয়েছে বিতর্ক।
মন্ত্রিসভার বৈঠকে কোনও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত গৃহীত না হলেও, গোদি সংবাদমাধ্যমে প্রচার শুরু হয়েছে যে আগামী ১ জুন থেকে চালু হচ্ছে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’। পাশাপাশি মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে বাসযাত্রার সুবিধাও চালু হতে পারে বলে জোর প্রচার শুরু হয়েছে। অথচ এই দুই প্রকল্পের কোনওটির বিষয়েই এখনও পর্যন্ত সরকার বা মুখ্যমন্ত্রীর তরফে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। তাহলে প্রশ্ন, তা হলে এই প্রচার কোথা থেকে শুরু হল? মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য যদি হয় যে সমস্ত কিছু প্রশাসনিক পর্যালোচনার পরে হবে, তা হলে সিদ্ধান্তহীন অবস্থাতেই প্রকল্প চালুর বার্তা ছড়ানো হচ্ছে কেন?
তৃণমূলের দাবি, ভোটের আগেই এই প্রবণতার ইঙ্গিত মিলেছিল। নির্বাচনী প্রচারের সময় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’-এর ফর্ম বিলি করতে দেখা গিয়েছিল বিজেপি নেতাদের। তখনও প্রকল্পের কোনও প্রশাসনিক কাঠামো বা সরকারি অনুমোদন ছিল না। বিরোধীদের অভিযোগ, মানুষের আবেগকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রচার চালানোই ছিল বিজেপির লক্ষ্য। শাসকদলের একাংশের কটাক্ষ, বিজেপি দীর্ঘ দিন ধরেই ‘ঘোষণার রাজনীতি’ করে এসেছে। বাস্তবায়নের আগে প্রচারকে সামনে রেখে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়াই তাদের কৌশল। বাংলাতেও সেই একই পথেই হাঁটছে গেরুয়া শিবির বলে দাবি তাদের। রাজনৈতিক বিতর্ক ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে— ঘোষণার আগে প্রচার, না কি প্রচারের পর বাস্তবায়ন— কোন পথে হাঁটছে নতুন সরকার?

এদিকে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে শপথ নেওয়া পাঁচ মন্ত্রীকে এদিন দফতর বণ্টন করে দেওয়া হয়েছে। দিলীপ ঘোষের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন, প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন এবং কৃষি বিপণন দফতরের দায়িত্ব। অগ্নিমিত্রা পাল পেয়েছেন নারী ও শিশুকল্যাণ, সমাজকল্যাণ এবং পুর দফতর। অশোক কীর্তনিয়ার হাতে গিয়েছে খাদ্য ও সরবরাহ এবং সমবায় দফতর। ক্ষুদিরাম টুডুকে দেওয়া হয়েছে আদিবাসী উন্নয়ন, অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণ এবং সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের দায়িত্ব। নিশীথ প্রামাণিক সামলাবেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন এবং যুবকল্যাণ ও ক্রীড়া দফতর।

আরও পড়ুন- ক্ষমতা হাতে পেয়েই অবস্থান বদল! মমতার সামাজিক প্রকল্প চালিয়ে যাবেন শুভেন্দু

_

_

_

_
_
_
_
