Tuesday, March 17, 2026

ট্রান্সজেন্ডার সংশোধনী বিল নিয়ে উদ্বেগ, NALSA রায়ের পক্ষে সরব যুব সমাজ

Date:

Share post:

ট্রান্সজেন্ডার সম্প্রদায়ের (Transgender Rights) সদস্য ও বিভিন্ন নাগরিক সমাজ সংগঠন ট্রান্সজেন্ডার পার্সনস (প্রোটেকশন অফ রাইটস) অ্যাক্ট, ২০১৯–এর প্রস্তাবিত সংশোধনী বিল নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের দাবি, এই সংশোধনী সংবিধান স্বীকৃত আত্মপরিচয়ের অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে এবং সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) ঐতিহাসিক নালসা রায়ের (NALSA Judgment) পরিপন্থী।

কলকাতা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে ট্রান্সজেন্ডার অধিকারকর্মীরা জানান, ১৩ মার্চ ২০২৬-এ লোকসভায় কোনও আলোচনা ছাড়াই ভয়েস ভোটে এই সংশোধনী পাস করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে, যা সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ট্রান্সজেন্ডার যুবক-যুবতীরা বলেন, তাঁরা যখন মূলধারার সমাজে নিজেদের জায়গা তৈরি করতে শুরু করেছেন, তখন এই ধরনের আইন তাঁদের আবার প্রান্তিকতায় ঠেলে দিতে পারে। তাঁদের মতে, এই সংশোধনী আত্মপরিচয়ের অধিকারকে দুর্বল করে দেবে। সাংবাদিক সম্মেলনে ট্রান্সজেন্ডার অধিকারকর্মী তিস্তা দাস বলেন, “এই সংশোধনী সংবিধানিক অগ্রগতিকে পিছিয়ে দিতে পারে এবং নালসা রায়ের মাধ্যমে অর্জিত অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করবে।”

অন্যদিকে, দীপাঞ্জন চক্রবর্তী মন্তব্য করেন, “আইনটি ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিদের পরিচয় নির্ধারণে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ বাড়াতে চায়, যা ব্যক্তিস্বাধীনতার পরিপন্থী।” বক্তারা আরও জানান, প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী ট্রান্সজেন্ডার পরিচয়ের সংজ্ঞা পরিবর্তনের চেষ্টা করা হচ্ছে, যা হিজড়া, কিন্নরসহ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী সম্প্রদায়ের পরিচয়কে সংকীর্ণ করে দিতে পারে। ট্রান্সজেন্ডার যুব নেতা শান চৌধুরী তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ার করে বলেন, “একজন তরুণ হিসেবে সমাজের কটূক্তি ও বাধা পেরিয়ে নিজের পরিচয় প্রতিষ্ঠা করা খুব কঠিন। এই আইন সেই লড়াইকে আরও কঠিন করে তুলবে।”

এছাড়া, বর্তমানে যে নিয়ম অনুযায়ী কোনও ব্যক্তি মেডিক্যাল পরীক্ষা ছাড়াই নিজের পরিচয় ঘোষণা করতে পারেন, সংশোধনী তা বদলানোর সম্ভাবনা তৈরি করছে বলেও অভিযোগ ওঠে। সাংবাদিক সম্মেলন থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে অবিলম্বে এই সংশোধনী প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, সংবিধান এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিদের অধিকার সুরক্ষার আহ্বান জানানো হয়।

spot_img

Related articles

অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিকদের পুনর্নিয়োগের খতিয়ান চাইল কমিশন

অবসরের পর পুনরায় নিয়োগ পাওয়া আধিকারিকদের নিয়ে বিতর্কের আবহেই রাজ্যের কাছে বিস্তারিত তথ্য তলব করল নির্বাচন কমিশন। নবান্ন...

সংগঠনেই আস্থা: নয় জেলায় জেলা পরিষদ সভাধিপতিরাই তৃণমূলের প্রার্থী

জনসংযোগ ও মানুষের উন্নয়নের নীতিতে যেখানে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে গত বিধানসভা নির্বাচনের থেকেও বেশি আসনে জয়ের পরিকল্পনা করেছে...

ভোটের দিনে পরীক্ষা স্থগিত, সিইউ-র সূচিতে বদল

প্রথম দফার ভোটের দিন পরীক্ষার সূচিতে বদল আনতে বাধ্য হল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। ২২, ২৩ ও ২৪ এপ্রিল নির্ধারিত...

নজিরবিহীন নজরদারি, দিল্লি থেকে আসা ১,১১১ পর্যবেক্ষকের তালিকায় শীর্ষে বাংলা

অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সুনিশ্চিত করতে এবার কোমর বেঁধে নামছে নির্বাচন কমিশন। পশ্চিমবঙ্গ-সহ পাঁচ রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত...