লোকসভা নির্বাচনের মুখে রাজ্যে একযোগে একগুচ্ছ আইএএস এবং আইপিএস আধিকারিককে বদলি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের এই পদক্ষেপের আইনি বৈধতা নিয়ে সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন আইনজীবী অর্ককুমার নাগ। এই জনস্বার্থ মামলায় আবেদনকারীর পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে কমিশনের এক্তিয়ার ও উদ্দেশ্য নিয়ে একঝাঁক প্রশ্ন তুললেন বর্ষীয়ান আইনজীবী তথা তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চে এদিন দীর্ঘক্ষণ এই মামলার শুনানি চলে।

আদালতে সওয়াল করতে গিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, নির্বাচন ঘোষণার পর থেকে নজিরবিহীনভাবে রাজ্যে প্রশাসনিক রদবদল ঘটাচ্ছে কমিশন। তাঁর দাবি, এখনও পর্যন্ত ৬৩ জন পুলিশ আধিকারিক এবং ১৬ জন আইএএস অফিসারকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই তালিকায় যেমন রয়েছেন মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিবের মতো শীর্ষ পদের আধিকারিকরা, তেমনই রয়েছেন জাভেদ শামিম বা সুপ্রতিম সরকারের মতো অভিজ্ঞ পুলিশ কর্তারাও। কল্যাণের প্রশ্ন, স্বরাষ্ট্রসচিব বা পঞ্চায়েত সচিবের মতো পদাধিকারীরা সরাসরি নির্বাচনের কাজে যুক্ত না থাকলেও কেন তাঁদের সরানো হল? এমনকি অনেককে ভিন রাজ্যে পাঠিয়ে দেওয়া বা নতুন কোনও দায়িত্ব না দিয়ে বসিয়ে রাখার কারণ নিয়েও তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন।

তৃণমূল সাংসদ এদিন আরও দাবি করেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া (এসআইআর) চলাকালীন এই আধিকারিকরা যখন কমিশনের নিয়ন্ত্রণেই ছিলেন, তখন তাঁদের কাজ নিয়ে কোনও প্রশ্ন ওঠেনি। কিন্তু ভোট ঘোষণার পরই কেন এই গণ-অপসারণ? ১৩ জন পুলিশ সুপারকে সরিয়ে দেওয়ার ফলে যদি রাজ্যে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে, তবে তার দায় কে নেবে— সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া দেশের অন্য কোনও রাজ্যে এই ধরনের নজির নেই।

এদিন রাজ্যের পক্ষে অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত সওয়াল করতে গিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের প্রসঙ্গ টানেন। তিনি জানান, ভোটার তালিকা প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে কমিশনের ক্ষমতা এখন বিচারকদের পর্যবেক্ষণে। বুধবার দুপুরে এই মামলার পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা। আইনি এই লড়াইয়ের ওপর এখন নির্ভর করছে রাজ্যের প্রশাসনিক বিন্যাস।

আরও পড়ুন- নির্বাচনের মুখে বড় ভাঙন কংগ্রেসে! ভোটের মুখে পদ্ম-শিবিরে নাম লেখালেন সন্তোষ পাঠক

_

_

_

_

_
