অনলাইনে খাবার অর্ডার করা এখন আর শুধু রেস্তোরাঁর দামের উপর নির্ভর করছে না, তার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে একাধিক অতিরিক্ত খরচ। সেই তালিকায় নতুন সংযোজন প্ল্যাটফর্ম ফি বৃদ্ধি। জোম্যাটোর পর এবার সুইগিও প্রতিটি অর্ডারে তাদের প্ল্যাটফর্ম ফি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ফলে সাধারণ মানুষের খরচ আরও কিছুটা বেড়ে গেল।

সুইগির নতুন ঘোষণায় জানা গিয়েছে, এতদিন যেখানে প্রতিটি অর্ডারে প্ল্যাটফর্ম ফি ছিল ১৪ টাকা ৯৯ পয়সা, তা বাড়িয়ে করা হয়েছে ১৭ টাকা ৫৮ পয়সা (জিএসটি-সহ)। অর্থাৎ প্রায় ১৭ শতাংশ বৃদ্ধি। অর্ডারের পরিমাণ যতই হোক না কেন, এই নির্দিষ্ট ফি এখন বাধ্যতামূলকভাবে দিতে হবে।

সংস্থার দাবি, অ্যাপের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, সার্ভার রক্ষণাবেক্ষণ এবং বিশাল ডেলিভারি নেটওয়ার্ক সচল রাখতে এই বাড়তি চার্জ প্রয়োজন। তবে গ্রাহকদের একাংশের মতে, বারবার এই ধরনের ফি বৃদ্ধিতে অনলাইন অর্ডারের খরচ ক্রমশ বাড়ছে।

এর আগে জোম্যাটোও তাদের প্ল্যাটফর্ম ফি বাড়িয়েছে। প্রতি অর্ডারে প্রায় ২ টাকা ৪০ পয়সা বৃদ্ধি করা হয়েছে, যার ফলে জিএসটি বাদে ফি দাঁড়িয়েছে ১৪ টাকা ৯০ পয়সা। কর-সহ হিসাব করলে দুই সংস্থার চার্জ প্রায় সমান হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই এই দুই সংস্থা প্রায় একই সময়ে ও একই হারে ফি পরিবর্তনের প্রবণতা দেখাচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে বাজারে নতুন প্রতিযোগী হিসেবে প্রবেশ করেছে র্যাপিডো। বেঙ্গালুরুতে তারা ‘ওনলি’ নামে একটি নতুন ফুড ডেলিভারি পরিষেবা চালু করেছে। এই পরিষেবায় গ্রাহক বা রেস্তোরাঁ—কাউকেই কোনও প্ল্যাটফর্ম ফি দিতে হচ্ছে না। শুধুমাত্র ডেলিভারি চার্জের বিনিময়ে খাবার পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অঙ্কে ছোট হলেও নিয়মিত অনলাইন অর্ডারকারীদের জন্য এই অতিরিক্ত ফি দীর্ঘমেয়াদে বড় খরচে পরিণত হতে পারে। নতুন প্রতিযোগিতার মুখে ভবিষ্যতে বড় সংস্থাগুলিকে আবার মূল্যনীতি পুনর্বিবেচনা করতে হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন – জিআইএসএস তথ্য বাধ্যতামূলক, পেনশন প্রক্রিয়া সহজে জোর রাজ্যের

_

_

_
_
