স্বেচ্ছামৃত্যু প্রক্রিয়া সম্পন্ন: হরিশ রানার শেষ অধ্যায়ে ভারতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা

একটি অধ্যায়ের শেষে সবসময়ই একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। উত্তরপ্রদেশের হরিশ রানার মৃত্যুতে একদিকে যেমন তাঁর দীর্ঘ রোগ যন্ত্রণা থেকে মুক্তি হল, তেমনই ভারতে প্যাসিভ ইউথনেশিয়া (passive euthanasia) বা স্বেচ্ছামৃত্যুতে এগিয়ে যাওয়ার পথ খুলে গেল। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতি বছর হরিশের মতো যে ভারতীয়রা মৃত্যুর অপেক্ষা করেন, কিন্তু দেশের আইনের কারণে অনুমতি পান না, তাঁদের জন্য খুলে গেল এক নতুন পথ, নতুন উদাহরণ।
Sponsored

দিল্লির এমএসের (Delhi AIIMS) বিআর অম্বেডকর ইনস্টিটিউট রোটারি ক্যানসার হাসপাতালে (Dr BR Ambedkar Institute Rotary Cancer Hospital) মঙ্গলবার মৃত্যু হল ৩১ বছরের হরিশ রানার (Harish Rana)। হরিশই দেশের প্রথম ব্যক্তি, যাকে দীর্ঘ ১৩ বছরের আদালতের যুদ্ধের পরে দেশের সুপ্রিম কোর্ট ‘পরোক্ষ’ নিষ্কৃতিমৃত্যুর (passive euthanasia) অনুমতি দিয়েছিল। আদালত পর্যবেক্ষণে জানায়, মর্যাদার সঙ্গে মৃত্যুর অধিকার হরিশের রয়েছে। আদালত আরও নির্দেশ দেয়, তাঁর জীবনদায়ী সাহায্য ধীরে ধীরে বন্ধ করতে হবে। সেই পথেই মঙ্গলবার মৃত্যু হল ৩১ বছরের হরিশ রানার।
২০১৩ সালে পঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের (Punjab University) বি-টেকের তৎকালীন ছাত্র হরিশ হস্টেলের চারতলার ব্যালকনি থেকে পড়ে গিয়ে মাথায় মারাত্মক চোট পান। সেই থেকেই তিনি ভেজিটেটিভ স্টেট বা কোমায় আচ্ছন্ন। সুস্থ হয়ে ওঠার আর কোনও আশা ছিল না। কৃত্রিম অক্সিজেন আর রাইলস টিউব দিয়ে নাকে নল ঢুকিয়ে খাবার দেওয়ার মাধ্যমেই কোনওমতে প্রাণ ছিল তাঁর শরীরে।
উত্তরপ্রদেশের (Uttarpradesh) গাজিয়াবাদের বাসিন্দা হরিশের বাবা-মা দিনের পর দিন ছেলের এই তিলে তিলে কষ্ট পাওয়া আর সহ্য করতে পারছিলেন না। তাঁরাই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়ে আবেদন করেন, চিকিৎসায় যখন আর কোনও আশা নেই, তখন যেন কৃত্রিমভাবে ছেলেকে কষ্ট দিয়ে বাঁচিয়ে রাখা না হয়। হরিশের বাবা-মায়ের আবেদন মেনে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জে বি পর্দিওয়ালা এবং বিচারপতি কে ভি বিশ্বনাথনের ডিভিশন বেঞ্চ গত ১১ মার্চ হরিশের পরোক্ষ নিষ্কৃতিমৃত্যুর অনুমোদন দেয়।
আরও পড়ুন : নিষ্কৃতিমৃত্যুর পথে যাত্রা, বন্ধ হরিশের পুষ্টি ও রক্ত পরীক্ষা
আদালতের নির্দেশে গত ১৪ মার্চ হরিশকে তাঁর গাজ়িয়াবাদের বাড়ি থেকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দেশে প্রথমবার প্যাসিভ ইউথনেশিয়া (passive euthanasia) প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ বেদনামুক্ত করার জন্য দিল্লি এইমস (Delhi AIIMS) চিকিৎসক সীমা মিশ্রের নেতৃত্বে একটি বিশেষজ্ঞ দল তৈরি করে। সেই দলে ছিলেন নিউরোসার্জন, ক্যানসার বিশেষজ্ঞ, প্যালিয়েটিভ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, মনস্তত্ত্ববিদ। তাঁরা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ধাপে ধাপে হরিশের কৃত্রিম পুষ্টি ও জীবনদায়ী ব্যবস্থা বন্ধ করেন। পরিবারের অনুরোধ অনুযায়ী গোটা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় পরে মঙ্গলবার প্রাণ ত্যাগ করেন হরিশ।
-
-
-
-
Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored

Related Articles

NEET ইস্যুতে বিরোধীদের সঙ্গে আলোচনায় বসবে কেন্দ্র! কী শর্ত দিলেন কিরেণ রিজিজু
2h ago

ক্যাম্পাসে 'নিখোঁজ' পোস্টার! NEET-এর প্রশ্নফাঁসে অবশেষে মুখ খুললেন এক 'ইডিয়েট ফারহান'
4h ago

আপাতত মিলল না অভিষেকের ব্ল্যাঙ্কেট প্রোটেকশনের আবেদনের অনুমতি, রাজ্যকে কী নির্দেশ আদালতের
4h ago

এক ধাক্কায় কত বাড়ল সোনার দর! দেখে নিন এক নজরে
5h ago

সংসদ চত্বরে গলায় প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে একাই বিক্ষোভে কল্যাণ
6h ago

২৯ বছর আগে প্রশ্নফাঁস নিয়ে ছাত্র আন্দোলনেই পরিচিতি ধর্মেন্দ্র প্রধানের! একই ঘটনায় কী বলবেন শিক্ষামন্ত্রী
6h ago
More from শিরোনাম
View All →
প্রশ্নফাঁসে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে তদন্তের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর, 'আগে শিক্ষামন্ত্রীকে বরখাস্ত করুন' পাল্টা পোস্ট রাহুলের
8h ago

শিক্ষার্থীদের সাহসকে কুর্নিশ, দিল্লিতে পড়ুয়াদের আন্দোলনকে সমর্থন সলমনের
9h ago

টার্গেট করে বিধানসভায় বলতে দিচ্ছে না, এর নাম গণতন্ত্র! মার্শাল দিয়ে বের করে দেওয়ার তীব্র প্রতিবাদ কুণালের
1d ago

আমার নাম কেটেছেন কেন? আখরুজ্জামানকে কুণালের প্রশ্নে ধুন্ধুমার বিধানসভা! টেনে-হিঁচড়ে বের করা হল বেলেঘাটার বিধায়ককে
1d ago

আজ কোথায় কত দাম পেট্রোল-ডিজেলের? দেখে নিন এক নজরে
1d ago
