শিক্ষাদুর্নীতি ও প্রশ্ন ফাঁস কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের (Dharmendra Pradhan) পদত্যাগের দাবিতে এক মাস ধরে যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ আন্দোলন করছে সিজেপি (CJP)। দেশজুড়ে পড়ুয়াদের মধ্যে বিক্ষোভ বাড়তে এবার ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে তদন্তের আশ্বাস দিয়ে সমাজমাধ্যমে পোস্ট দেশের প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi)। সঙ্গে কড়া বার্তা, “ছাত্রদের থেকে গুরুত্বপূর্ণ আমাদের কাছে কিছুই নয়। তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আপস করবে না সরকার। দেশের যুবসমাজের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করাটাই আমাদের লক্ষ্য।” বৃহস্পতিবার সকালে মোদির এক্স হ্যান্ডেলে পোস্টের কিছুক্ষণ পরেই পাল্টা পোস্ট করে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) লেখেন, ' আগে শিক্ষামন্ত্রীকে বরখাস্ত করুন।' একই দাবি ককরোচ জনতা পার্টিরও (CJP)। 

জে পি নাড্ডা গত বুধবার জানিয়েছিলেন ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার যে দাবি করা হচ্ছে তা নিয়ে আলোচনা হবে। পাল্টা ককরোচ জনতা পার্টির তরফে বলা হয় এই বিষয়টা আলোচনার ঊর্ধ্বে, কারণ ওনাকে পদত্যাগ করতেই হবে। তা নাহলে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথাও স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা। দেশজুড়ে যখন জোরদার হচ্ছে মোদি বিরোধী বিক্ষোভ, তখন সমাজমাধ্যম পোস্টে প্রধানমন্ত্রী জানান ‘সব প্রশ্নফাঁসের দোষীদের দ্রুত শাস্তি দেওয়ার জন্য ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট তৈরি হবে। ইতিমধ্যেই এ নিয়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ করার জন্য সব দফতরের আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছি। পড়ুয়াদের স্বার্থ সুরক্ষায় বহু পদক্ষেপ সরকার করছে, এটা সেগুলির মধ্যে অন্যতম। যারা আমাদের পড়ুয়াদের ক্ষতি করতে চায় তাঁদের কোনওভাবেই ছাড়া হবে না।”

এরপরই কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী সরাসরি বিজেপি সরকার ও প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করে লেখেন, "আপনিই আমাদের তরুণদের ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় ক্ষতি করেছেন।আপনি আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে পুরোপুরি কব্জা ও ধ্বংস করার সুযোগ দিয়েছেন এবং তাতে ইন্ধন জুগিয়েছেন—পাশাপাশি এর জন্য দায়ী প্রত্যেক ব্যক্তিকে সুরক্ষা দিয়েছেন।শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো স্পষ্ট: ১. ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত করা। ২. শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাওয়া। ৩. যারা শিক্ষার্থীদের উপর হামলা চালিয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।

দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে দিল্লির যন্তর মন্তরে উপস্থিত হচ্ছেন ছাত্র যুবরা। বুধবার রাতেও লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। পাল্টা ইট পাথর ছুড়তে দেখা গেছে আন্দোলনকারীদের। কমপক্ষে পাঁচ থেকে ছয় জন আহত হয়েছেন বলে খবর মিলেছে। সূত্রের খবর প্রশ্নফাঁস দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে আন্দোলনরত মহিলাদের গায়ে হাত দেওয়ার অভিযোগে যন্তরমন্তর থেকে সরানো হয়েছে ADCP সন্দীপ লাম্বাকে।