১৫ বছর পেরোলেই কি বাতিলের খাতায় চলে যাবে পণ্যবাহী ট্রাক ও স্কুল পুল কার? এই আয়ুসীমা শিথিলের দাবিতে দীর্ঘদিনের যে আন্দোলন চলছিল, তা নিয়ে এবার বড় পদক্ষেপ করতে চলেছে রাজ্য সরকার। আগামী ২৭ মার্চ পরিবহণ দফতরে এই সংক্রান্ত একটি উচ্চপর্যায়ের শুনানি ডাকা হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশ এবং অপারেটর সংগঠনগুলির লাগাতার আবেদনের প্রেক্ষিতেই পরিবহণ দফতর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

মঙ্গলবার দফতরের পক্ষ থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়েছে, ওইদিন পুল কার ওনার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন এবং ফেডারেশন অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্রাক অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। সেখানে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য শুনে সরকার তার পরবর্তী অবস্থান স্পষ্ট করবে।

ঘটনার সূত্রপাত ২৬ ফেব্রুয়ারি কলকাতা হাইকোর্টের একটি নির্দেশে। আদালত জানিয়েছিল, ট্রাক অপারেটরদের আবেদনটি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে এবং ‘বাস্তবসম্মত’ দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে বিবেচনা করতে হবে। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে সব পক্ষকে নিয়ে আলোচনা করে একটি যুক্তিসঙ্গত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর পরামর্শ দিয়েছিল আদালত। যদিও মামলার মূল আইনি দিকগুলি নিয়ে চূড়ান্ত রায় দেয়নি কোর্ট, তবে রাজ্যের কাছে বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ ছিল স্পষ্ট।

ট্রাক অপারেটরদের দাবি, ১৫ বছর হয়ে গেলেই ভালো অবস্থায় থাকা গাড়িরও ফিটনেস সার্টিফিকেট (সিএফ) নবীকরণ করা হচ্ছে না। এর ফলে কয়েক হাজার মালিক, চালক ও খালাসির জীবিকা আজ সংকটের মুখে। তাঁদের প্রধান যুক্তিটি হলো বৈষম্য। অপারেটরদের দাবি, একই ‘হেভি মোটর ভেহিকল’ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও বাসগুলি ১৫ বছরের বেশি সময় চালানোর ছাড়পত্র পায়। কিন্তু পণ্যবাহী ট্রাকের ক্ষেত্রে সেই নিয়ম কেন প্রযোজ্য হবে না?

সংবিধানের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদের সাম্যের অধিকারের প্রসঙ্গটি আদালতও এদিন উত্থাপন করেছে। ট্রাক এবং বাসের মধ্যে এই পার্থক্যের পিছনে কোনও যুক্তিসঙ্গত ভিত্তি আছে কি না, রাজ্যকে তা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।

সমতার দাবি তুলেছে স্কুল পুল কার সংগঠনগুলিও। তাদের যুক্তি, স্টেজ ক্যারেজ বাসের তুলনায় পুল কার দিনের মধ্যে মাত্র কয়েক ঘণ্টা চলে। সারা বছরে ছুটির কারণে অনেক দিনই এই গাড়িগুলি রাস্তায় নামে না। ফলে বড় বাসের তুলনায় এগুলির ইঞ্জিনের ওপর চাপ ও ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কম হয়। পুল কার মালিকদের বক্তব্য, কড়া শর্ত মেনে যদি নিয়মিত ফিটনেস পরীক্ষা এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধি বজায় রাখা হয়, তবে ১৫ বছরের বেশি পুরনো গাড়ি চলাচলে সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

পরিবহণ দফতরের এই শুনানি ঘিরে আশার আলো দেখছেন পরিবহণ কর্মীরা। তবে পরিবেশগত মানদণ্ড বজায় রেখে সরকার বয়সের এই ঊর্ধ্বসীমা বাড়াবে কি না, তা এখন ২৭ মার্চের আলোচনার ওপর নির্ভর করছে।

আরও পড়ুন – বিজেপির তৃতীয় প্রার্থী তালিকায় অভয়ার মা: প্রত্যাশা মতোই পানিহাটি থেকে প্রার্থী

_

_
_
_
